মেঘনায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

রবিন। ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশে মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর রবিন (৩০) নামে এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে মরদেহটি বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মকবুল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামানোর সময় রবিন মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘাটে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে লঞ্চ থেকে নামার পর রবিনের মনে পড়ে তার ব্যাগটি লঞ্চে রয়ে গেছে। এ কারণে তিনি আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে লঞ্চ থেকে নামার সময় সেটি পেছনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হলে তিনি ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান।

ঘটনার পর মকবুল-২ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মতলব উত্তর উপজেলার তাতুয়া গ্রামের মনির হোসেন (৫০) এবং গ্রিজার দাউদকান্দির বালিয়াধন গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৭)কে আটক করা হয়।

নিখোঁজের পর প্রথমে রবিনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে নদীতে তল্লাশির একপর্যায়ে তার ব্যাগ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য একটি ফোনে সংযুক্ত করে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হয়। ফোনটি রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার রিসিভ করলে তিনি নম্বরটি তার স্বামীর বলে নিশ্চিত করেন।

স্বামীর নিখোঁজের খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। একদিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করেন তিনি। এ সময় আহাজারি করে নাসরিন বলেন, ‘আমার এহন কী অইবো, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবো? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না?’

স্থানীয়রা জানান, রবিনের জন্মস্থান শরীয়তপুর। তিনি নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করতেন। তার শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

চাঁদপুর ফায়ার স্টেশনের (নৌ) স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর শুক্রবার ও শনিবার বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলসহ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর ঘাটসংলগ্ন নদী থেকে নিখোঁজ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। উদ্ধার মরদেহ রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।3

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম