
।। এস ডি সুব্রত।। শবে বরাত বা মধ্য শাবান বা লাইলাতুল বরাত হচ্ছে হিজরী শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে পালিত মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ রাত ।উপমহাদেশে এ রাতকে বলা হয় শবে বরাত। শবে বরাত শব্দের উৎপত্তি ফারসি শব্দ ‘ শব ‘ যার অর্থ রাত এবং ‘বরাত ‘যার অর্থ সৌভাগ্য। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত টি শবে বরাত হিসেবে পালিত হয়। শবে বরাত ফারসি শব্দ । আরবী তে বলা হয় লাইলাতুল বরাত বা মুক্তির রাত। পবিত্র শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন।এ রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত নাজিল হয় বান্দাদের উপর। আল্লাহর নির্দেশে এ রাতে রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয় ।এরাতে আল্লাহর কাছে পাপ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়। এ রাতে আল্লাহ সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন কোন ক্ষমা প্রার্থী আছ কি ? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছ কি রিজিক প্রার্থী ? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবেহ সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাদের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকে। শবে বরাত মানে মুক্তির রাত।
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রিয় নবী রসুল (সা.) বলেছেন যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এ সৌভাগ্যের রজনীতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দরুদ পাঠ করবে তারাই হবে কামিয়াব এবং নেক বান্দা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য কাঙ্খিত মহিমান্বিত রজনী হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন এবং আগামী এক বছরের জন্য মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। এই রাতে আল্লাহ তায়ালার নূরের জ্যোতি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়।এই সময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা র বিশেষ সময় । ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ চারটি রজনীর মধ্যে অন্যতম রজনী হচ্ছে শবে বরাতের রজনী।এ রাতে মুসলমান গণ আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ , কোরআন তেলাওয়াত জিকির আসগার করেন।এক মাস সিয়াম সাধনার আগে শবে বরাত উপলক্ষে নফল রোজা ও নফল নামাজের মধ্যে দিয়ে মূলত মুসলমানগণ রমজানের প্রাক প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পান।
শবে বরাতের ইতিহাস সম্পর্কে রাসুলে খোদা (সা.) বলেছেন …… শাবান মাসের মধ্য রজনীতে ১৫ ই শাবানের রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম, এমন সময় জিবরাঈল (আ.) আমার শিয়রে উপস্থিত হয়ে বলল ,হে মুহাম্মদ উঠুন,এর পর সে আমাকে শোয়া থেকে উঠাল। এবং বাকী কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে বলল আকাশের দিকে চেয়ে দেখুন! আজ রাতে আসমানের দরজাসমুহ, রহমতের দরজা সমূহ খুলে যাবে এবে খুলে যাবে সকল সুখ সমৃদ্ধি , ক্ষমা,রুযি , পরিত্রাণ পাওয়া পূণরুজ্জীবিত হওয়ার দরজাসসমুহ ও অন্যান্য ….। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা চতুষ্পদ জন্তুর গায়ের চুল ও পশমের পরিমাণ নিজ বান্দাগণকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করবেন।এসময় তিনি মৃত্যুর সময় এবং আগামী এক বছরের রিযিক দান করবেন। দ্বিতীয় হিজরীর ১৫ ই শাবান মধ্যরাতে উক্ত ঘটনা সংঘটিত হয় । তখন থেকেই শবে বরাতের রেওয়াজ প্রচলিত হয় ।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ।
০১৭১৬৭৩৮৬৮৮ ।
sdsubrata2022@gmail.com


