মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ফ্যাসিবাদ বিরোধী মিছিল করার সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বাজারে এ ঘটনায় ড. জালাল গ্রুপের ৮ জন বিএনপি নেতাকর্মী ও ২ জন পথচারীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে যুবদল নেতা মামুনের চোখ বাতিল বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।
আহতরা হলেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পুটিয়ারপাড় গ্রামের আল মামুন সরকার (৪০), উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাঢ়ীকান্দি গ্রামের ফয়সাল আহমেদ সোহেল (৫০), উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নওদোনা গ্রামের নাজমুল হাসান জিশান (৩৬), দূর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা পাঠান চক গ্রামের সুমন বেপারী (৩৮), শিকারীকান্দি গ্রামের সুমন প্রধান (৪৪), ঘাসিরচর গ্রামের মেহেদী হাসান (২৬), দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনুরকান্দি গ্রামের নাছির উদ্দীন (৫০), ছাত্রদল নেতা নওদোনা গ্রামের মাহিন (১৮), পথচারী জোড়খালী গ্রামের কাউছার (২৫) ও নাইম (২২)।
নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. জালাল উদ্দিন ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা এই দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা নিশ্চিন্তপুর বাজারে একই সময়ে প্রোগ্রাম দেন। কিন্তু সমঝোতার ভিত্তিতে আগে বিকালে ড. জালাল গ্রুপ মিছিল করবে আর সন্ধ্যার পরে তানভীর হুদা গ্রুপ মিছিল করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জালাল গ্রুপের মিছিল শেষ না হতেই মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিবাদ বিরোধী মিছিল আয়োজন করি। বিকাল ৬ টায় নিশ্চিন্তপুর পশ্চিম বাজার থেকে মিছিল শুরু করে পূর্ব বাজারে যাই, পূর্ব বাজার থেকে পূণরায় পশ্চিম বাজারের দিকে আসার সময় মাঝ রাস্তায় ব্রীজ গোড়ায় আসলেই আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। প্রায় ৩০-৪০ জন লোক এসে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করলে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে পড়ে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিচ্ছি। মুমুর্ষ অবস্থায় মামুনকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। আঘাতে তার ডান চোখ গলে বাতিল হয়ে গেছে।
আহত নাজমুল হাসান জিশান বলেন, আমরা মিছিল করার জন্য থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে মিছিল করার ব্যাপারে মৌখিক অনুমতি দিয়েছে এবং পুলিশও মোতায়েন করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল, কিন্তু তারপরও আমাদের উপর এই সন্ত্রাসী হামলা হলো।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, দুই গ্রুপ একই সময়ে প্রোগ্রাম দেয়। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে আগে পরে প্রোগ্রাম করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু একপক্ষ মিছিল করা অবস্থায় সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশও আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৩২৫/৩২৬ ধারায় মামলা নেওয়া হবে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/


