মতলবে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসি চায় স্বজনেরা

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুন্সিরকান্দি গ্রামের নেয়ামত উল্লাহর ছেলে রিপন প্রধানকে শ্বশুড় বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করে মামলা দায়ের করেছেন তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর প্রধান।

গত ১১ এপ্রিল এই হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও এখনো কোন আসামী ধরা না পড়ায় হত্যাশ বাদী ও নিহতের স্বজনেরা।

নিহতের স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামী খাদিজা আক্তারের ফাঁসির দাবীতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিরকান্দি গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। এসময় নিহত রিপনের ভাই ও মামলা বাদী জাহাঙ্গীর প্রধান, তার মা সূর্যবান বেগম ও বোন হাসিনা বেগম বলেন, আমার ভাই রিপনকে পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী হত্যা করেছে। খাদিজা তার খালাতের ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কথা আমার ভাই জেনে যায়। রিপন তার সমস্ত টাকা পয়সা তার স্ত্রীর কাছে রেখেছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবির্তকের পর এই হতাকান্ড ঘটায় খাদিজা। কিন্তু অনেক দিন হলেও খাদিজা এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমরা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আর্কষন করি খাদিজাকে গ্রেফতার করে দ্রুত ফাঁসি চাই।

এলাকাবাসী বলেন, রিপন খুবই ভালো ছেলে ছিল। তাকে তার স্ত্রী হত্যা করে চাঁদপুর হাসপাতালে লোক দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। ওই লোক তাকে হাসপাতালে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এরপর থেকে আমাদের সন্দেহ হলে তাকে চেক করে মারপিটের চিহ্ন পাওয়া যায়। এরপর থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি, পরে চাঁদপুর কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দ্রুত আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

গত ১১ এপ্রিল বিকেলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মধ্য নাগদা গ্রামে স্ত্রী খাদিজা বেগমের বাড়িতে যান রিপন প্রধান। সেখানে স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করে এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে বিষপানের নাটক সাজানো হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রিপনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিপনের স্ত্রী খাদিজা বেগমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব দক্ষিণ থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফম/আরাফাত/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম