চাঁদপুর জেলায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন

অন্য উদ্দেশ্যে নয়, আল্লাহর জন্য কোরবানি দিতে হবে: পীর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান

ছবি: মো. শওকত আলী।

লোভলালসার উর্ধ্বে থেকে ত্যাগ স্বীকার করাই হচ্ছে আল্লাহর জন্য কোরবানি: ডিসি
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলায় ধর্মীয় পরিবেশে এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন হয়েছে। তবে আগের দিন থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক স্থানে মাঠে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়নি। যার ফলে স্থানীয় মসজিদগুলোতেই ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লীরা।

শহরে প্রধান ঈদের নামাজের প্রধান জামায়াত সকাল ৮টায় পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ২০টি স্থানে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামাতের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ।

পৌর ঈদগাহে নামাজে ইমামতি করেন বাহাদুরপুর দরবার শরীফের পীর হাজী শরিয়তউল্লাহ্ (র.) সপ্তম পুরুষ হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ হাসান। এই নামাজের জামায়াতে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তার অংশগ্রহণ করেন।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নামাজের জামায়াত পূর্বে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বক্তব্যে বলেন, এই ঈদগা মাঠে দ্বিতীয়বার নামাজ আদায় করার সুযোগ পেয়েছি। সে জন্য আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করছি।

তিনি কোরবানি প্রসঙ্গে বলেন, কোরবানির অর্থ হচ্ছে ত্যাগ স্বীকার করা। লোভলালসা বাদ দিয়ে সবার উর্ধ্বে থেকে ত্যাগ স্বীকার করারই হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ্র আদেশে কোরবানি দেওয়া। একটি পশুকে জবাইর মাধ্যমে কোরবানি দিয়ে মনের মধ্যের শয়তানি বাদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা কী কোনবানি করি তা সঠিক হচ্ছে কী-না। তা বুঝতে হবে। কোরবানির গোসত গরীবের হক, গরীবকে সে গোসতো চাওয়া মাত্র দিতে হবে। গোসতো চাইলে কটু কথা বাদ দিতে হবে। এ কোরবানির গোসত গরীবের হক। তা তার অধিকার তাকে দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রকৃত অর্থে এ কোরবানির মাধ্যমে আমাদের সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি হয় এবং রাজা ও প্রজার মধ্যেও দুরুত্ব কমে। শুধু গরীবরা আপনাদের খোঁজখবর নিবে সারা বছর। আপনাদেরও উচিত এ কোরবানির সময় তাদের পাশে গিয়ে তাদের খোঁজখবর রাখা।

হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ হাসান বলেন, আমার পক্ষ থেকে কালেক্টরেট মজিদের ইমাম মাওলানা মোশারক হোসেন পবিত্র কোরবানি সম্পর্কে যে তাৎপর্যের বয়ান দিয়েছেন, তা সকলকে পালন করার আহবান করছি। তিনি বলেন, আল্লাহ্র জন্য কোরবানি দিতে হবে। অন্য উদ্দেশ্যে কোরবানি দিলে তা হবে না।

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি ও দেশের শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে মুসল্লীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং কোলাকুলি করে।

চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। সেখানে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নামাজে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও এই দিন শহরের চিশতিয়া জামে মসজিদে একাধিক জামায়াতসহ পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য ঈদ জামায়া নির্ধারিত সময় অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা জুড়ে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সামর্থ্যবান ব্যাক্তিরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করেন। চাঁদপুর পৌর এলাকায় বিকেলের মধ্যেই পৌরসভার লোকজন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেন।

ফম/এমএমএ/

মো. শওকত আলী | ফোকাস মোহনা.কম