ভালোভাবে না শিখলে সার্টিফিকেট গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে : ডিসি চাঁদপুর

শাহরাস্তি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্যারেন্টস ডে

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

শাহরাস্তি (চাঁদপুর):  চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মানসম্মত শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। জিপিএ-৫ কতজন পেল সেটি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয়, সে ভালোভাবে শিখলো কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তান জিপিএ-৫ পেয়েছে এতে আপনার হাততালি দেয়ার কিছু নাই, সে জিপিএ-৫ পেল, জিপিএ উচ্চারণ করতে পারছে না, জিপিএতে কি হয় সেটা বলতে পারছে না, এই জিপিএ তার কাজে লাগবে না। একসময় এ সার্টিফিকেট গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তাকে মাস্টার্স পাশ করানোর দরকার নেই। এ সার্টিফিকেট না করে তাকে আপনি গাড়ির ড্রাইভিং শেখান, রাজমিস্ত্রির কাজ শেখান, তাকে ইলেকট্রিক কাজ শেখান তাহলে সে কিছু করে খেতে পারবে। না হলে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের পর সে কোন ছোট কাজ করতে পারবে না, তার ইগোতে লাগবে। ছোট চাকরি করতে তার ইজ্জতে লাগবে। আপনি তাকে কৃষি কাজ শেখান, ভালো কৃষক বানান। সফল খামারি হবে। সে পুকুর বানাবে, পুকুরে মাছ চাষ করবে, তার উপর হাঁসের খামার করবে, তার উপর ঝাঁকা দিয়ে সবজির চাষ করবে, উপরের পাড়ে ফলের বাগান করবে। এক পুকুর থেকে সে সাত রকমের আয় করবে।

আবার যদি মনে করেন সে পারবে, তাকে আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল সার্ভিস বানানোর জন্য সেভাবে তাকে পড়াশুনা করান। সে ভালো করছে তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করে দেন। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন সে ভালো করতে পারছে না, অন্যদিকে চলে যাচ্ছে, তার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় শাহরাস্তি উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্যারেন্টস ডে, সার্টিফিকেট প্রদান ও টিফিন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শৈশব যে ভাবে কেটেছে তা এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। সামাজিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আগের মতো সামাজিক মর্যাদা দিতে আমরা ভুলে যাই। আমরা একসাথে বসে খাবার খেতেও সময় পাইনা। আমাদের সম্মানের জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পিতা মাতার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে সন্তান। আপনারা কি খবর রাখছেন রাত ১২ টার পর ল্যাপটপ বা মোবাইলে আপনার সন্তান কি করছে এবং কি দেখছে। আপনাদের সন্তানের নৈতিক অবক্ষয় ঘটে এমন নিষিদ্ধ কিছু দেখছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনার সন্তানকে আপনি এখানে শিখতে দিয়েছেন, সে যদি ভালোভাবে পড়ে, ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে, এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী সফল হয়,তাহলে আপনারা গর্বিত হবেন বাবা মা হিসেবে। এই প্রতিষ্ঠানের অর্জন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং হবে যে, বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলে সবাই ভালো পড়াশুনা করে, তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল।

বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ্নও) মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভাপতিত্বে ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন মজুমদারের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম প্রধানীয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমজাদ হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ আর এম জাহিদ হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ পিঠা উৎসবের স্টল ঘুরে দেখেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী টিফিন উৎসব, সার্টিফিকেট বিতরণ ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফম/এমএমএ/ফয়েজ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম