বালিয়ায় মা-ছেলেসহ হামিদ মেম্বারের যত কান্ড !

মায়ের বিরুদ্ধে বর্ননা দিচ্ছেন ছেলে শিশির।

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্যের সাথে মায়ের পরকিয়ার বিরুদ্ধে ছেলে অভিযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল ছেলে রায়হান হোসেন শিশির গনমাধ্যমে মায়ের পরকিয়ার কথা জানান। সামাজিক এ অভক্ষয়ের কারণে এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্তদের অনিয়ম প্রতিরোধে শিশিরসহ এলাকার যুব সমাজ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে এ নিয়ে শিশিরের মা সুলতানার পাল্টা অভিযোগও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বালিয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের গুলিশা গ্রামের মুত আব্দুল কুদ্দুছ গাজীর স্ত্রী আলেয়া সুলতানা নাহারের সাথে ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ভুঁইয়ার সাথে পরকিয়া রয়েছে বলে ছেলে রায়হান হোসেন শিশির গাজী অভিযোগ করে আসছেন। হামিদ ভুঁইয়া দীর্ঘদিন তাদের বাড়িতে কারণে অকারণে এসে তার মায়ের সাথে পরকিয়ায় আশক্ত হন। প্রতিনিয়তই হামিদ ভুঁইয়া তাদের বাড়িতে আনাগোনা থাকায় এলাকাবাসীসহ তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মায়ের পরকিয়ার বিয়টি ছেলে শিশির বুঝতে পেরে মায়ে সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন ব্যার্থ হন। উল্টো ছেলে শিশিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন তার মা।

রায়হান হোসেন শিশির বলেন, আমি দেড় বছর প্রবাসে ছিলাম। প্রবাস থেকে বাড়িতে এসে মেম্বারের সাথে মায়ের পরকিয়া চলছে বুঝতে পারলাম। এ নিয়ে মায়ের সাথে আমার দ্বন্ধ শুরু হয়। মা, মেম্বার এবং আমার ছোট ভাই মিলে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেন। মায়ের অনিয়ের প্রতিবাদ করায় আমি বাড়ি ছাড়ার উপক্রম হয়েছে।

মৃত কুদ্দুছ গাজীর স্ত্রী ও শিশিরের মা আলেয়া সুলতানা নাহার বলেন, আমার ছেলে একজন মাদকা সক্ত। নেশার টাকা না দিলেই আমার ওপর হামলা করতে চলে আসে। বাড়িতে কয়েকবার হামলা করে ঘরের বেড়া ভাংচুর করেছে। এখনো সে বেড়া ভাংচুর রয়েছে। তাকে সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশে পাঠিয়েছিলম। কিন্তু বিদেশে গিয়ে সে কোন টাকা পয়সা আমাকে না দিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এসেই সংসারে অশান্তি শুরু করেন।

শিশিরের ভাই ছেলে রায়হান ইসলাম জুম্মান গাজী বলেন, আমার বড় ভাই সংসারে অশান্তির জন্য মায়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। তার অপপ্রচারের কারনে আমাদের সামাজিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাজকামের জুগালি দিয়ে সাংসার চালাচ্ছি। মা বোনকে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি। কিন্তু বড় ভাই আমাদের শান্তিতে বসবাস করতে দিচ্ছেনা।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হামিদ ভুঁইয়া বলেন, একটা চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার করে যাচ্ছে। যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমি জনপ্রতিনিধি, আমাকে দিয়ে অনিয়ম কাজ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার পাটওয়ারী ছেলে শামীম, হারুন গাজী মামুন, রফিক মিয়াজী রিয়াদ মিজি, মিন্টু গাজী নয়ন গাজী, দেলোয়ার গাজী রাকিব গাজী বলেন, কুদ্দুছ গাজীর স্ত্রীর পরকিয়া এলাকায় সর্ব মহলে এখনো প্রতিনিয়তই আলোচনা হচ্ছে। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

এ ছাড়াও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য হামিদ ভুঁইয়ার কাছে বিভিন্ন কার্ডের জন্য গেলে সে গালমন্দ ও নারীদের কুপ্রস্তাব দেন। এটা থেকে পরিত্রান চায় এলাকার নীরিহ লোকজন।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম