চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়ালপুর বাজার ইজারার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। এতে বাজারের লোকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যায় চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের ওই বাজারে ইজারাদারের প্রতিনিধির সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বাজার বিগত শেখ হাসিনা সরকার সময়ে ইজারা ছাড়াই প্রভাবশালীরা চাঁদা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নিত। ৫ আগস্টের পর চলতি বাংলা সনের ১ বৈশাখ থেকে বাজার ইজারা নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন। তার প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়াকে ইজারার দৈনিক টাকা আনতে গেলে তাকে চাঁদাবাজ বলে মাছ ব্যবসায়ীরা প্রতিরোধ করে এবং সর্বশেষ তাকে মারধর ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভাটিয়ালপুুর চৌরাস্তায় প্রতিদিন ভোরে পাইকারী মাছ বাজার বসে। ১৪ জন আড়তদার মাছ ক্রয়-বিক্রয় করেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের মাছ বাজারে আগমন ঘটে। মৌসুমের সময় দৈনিক অর্ধকোটি টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়। বর্তমান বাজারেও দৈনিক বেশ কয়েক লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়। আগে ইজারা প্রথা না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ১৪৩২ সালের এক বছরের জন্য বাজার ইজারা দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। উম্মুক্ত টেন্ডার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইজারা পায় উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন। এই ইজারাকে কেন্দ্র করে ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা দুইটি পক্ষ বিভক্ত হয়ে পড়ে। আব্দুল মতিনের বিপক্ষ হয়ে দাঁড়ান পৌর যুবদলের আহবায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী। ইমাম হোসেন ইজারা বাতিলের দাবিতে এবং আব্দুল মতিন রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ইজারা বহাল রাখার জন্য অবস্থান নেয়।
ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মনির হোসেন বলেন, এই বাজার আগে ইজরা ছিলো না। কারণ পৌরসভার নূন্যতম কোন সুবিধা ব্যবসায়ীরা পাননি। যে কারণে আমাদের ওপরে চাপিয়ে দেয়া ইজারা বাতিলের জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, সেনা ক্যাম্প, উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু যিনি ইজারা নিয়েছেন তিনি উপস্থিত না হয়ে তার প্রতিনিধি দিয়ে আমাদের কাছ কমিশন আদায়ের চেষ্টা চালায়। যে কারণে তার সাথে ব্যবসায়ীদের বিরোধ হয়। আজকে গোলাম কিবরিয়া স্থানীয় কিশোর গ্যাংদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমি নিজেসহ ব্যবসায়ী আলম শেখ, গিয়াস উদ্দিন, জাফর, আনেয়ার, শুভ, ছলেমান খান ও ইলিয়াছ খান আহত হন।
ইজরাদার আব্দুল মতিন বলেন, ইজারা দেয়ার পর মাছ ব্যবসায়ীরা খাজনা দিতে আপত্তি জানান। যে কারণে তাদের নিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বৈঠকে বসে। তাদেরকে খাজনা কম দিয়ে হলেও ইজারা বহাল রাখার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু তারা প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হলেও পরবর্তীতে থানার ওসির কাছে গিয়ে বলে তারা খাজনা দিবেন না। এরপর তারা আমার প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়াকে চাঁদাবাজ বলে মারধর করে। তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে কাজ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও আড়তদার সফিক, ইলিয়াছ, মনির ও রাজু।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ নেয়া পৌর যুবদলের আহবায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বিগত প্রায় ১৬ বছর এই বাজার ইজারা হয়নি। এখন নতুন করে ইজারা নিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন। তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চক্রান্ত শুরু করেছেন। এতে আমাদের দলের বদনাম হবে। যে কারণে আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ এই বাজারে প্রায় ১ হাজার লোকের জীবন জীবীকা জড়িত। ব্যবসায়ীরা তাকে ৬লাখ টাকা নিয়ে তাদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে বলেন। কিন্তু ইজারাদার দৈনিক কমিশন হারে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, হাসপাতালে আহত ৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ইজারা বাতিলের জন্য ব্যবাসয়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
ফম/এমএমএ/



