চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার ১ বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পূর্ব বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সিলিপের অর্ধলক্ষ টাকাসহ একাধিক বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষিকার নাম সালমা আক্তার ।শুধু একাধিক বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়াই নয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও দাতা সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করার অভিযোগও রয়েছে এই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।
খোজনিয়ে জানাযায়, পূর্ব বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকা সিলিপ বরাদ্দ আসে। সেই টাকার কোন কাজ না করে পুরোটাই হাতিয়ে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সালমা আক্তার ।এছাড়াও বিদ্যালয়ে একাধিক জনের দেওয়া উপহার সামগ্রীকে তিনি ভাউছার করে বিল উঠিয়ে নেন।এমনকি বিদ্যালয়ে জাতীয় কোন দিবসের অনুষ্ঠান ও করেননি তিনি।সরকারি ভাবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার খাতা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও উল্টো এই প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাড়ি থেকে খাতা আনান।এবং পরিক্ষার ফিস বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেন। বিদ্যালয় থেকে প্রত্যায়ন পত্র নেওয়ার সময় তাকে ৪০০-৫০০ টাকা করে দিতে হয় অভিভাবকদের ।এমনকি বিদ্যালয়ের কোন ওয়াশরুম শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করতে দেননা এই প্রধান শিক্ষিকা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্যে নিতে গেলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিদ্যালয় থেকে কেটে পড়েন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের ঢালী বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি আমি জানিনা কোন স্বাক্ষরও দেইনি অথচ দেখি রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর। এভাবে আমাদের এক দাতা সদস্যের স্বাক্ষরও তিনি জালিয়াতি করেছে। বিদ্যালয়ে নাকি ৫০ হাজার টাকা সিলিপ বরাদ্দ আসছে ইতিমধ্যে টাকাও উত্তলন করেছে অথচ এক টাকারও কাজ হয়নি।আমি নিজে বিদ্যালয়ে একটি টেবিল উপহার দিয়েছি। অথচ তিনি সেই টেবিলের ভাউছার করে বিল উঠিয়ে নিয়েছে।বিদ্যালয়ের কোন বিষয়ে উনি আমাদের কমিটির সাথে যোগাযোগ করেনি।
এবিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মজিবুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো শুনলাম তা খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের যে সহকারী শিক্ষা অফিসার দায়িত্বে আছে। তাকে আমি পাঠাবো এবং অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত বিষয়টি জেনে দ্রুত তা খতিয়ে দেখার জন্য সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।
ফম/এমএমএ/


