চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকার রেলক্রসিং এর দক্ষিণে খান সড়ক নামে পরিচিত সড়কটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ চরমে পেঁছায়। রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বারবার সংস্কারের দাবি তোলা হলেও এ পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ। এই রাস্তাটি নির্মাণ করার পর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কারের কোনো উদ্যােগই নেয়নি, রাস্তা ভেঙে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নাকি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার নাগরিক। এটি শুধু কাগজ কলমে, বাস্তবে মনে হয় না। দক্ষিণ বিষ্ণুদী এলাকার সবচাইতে অবহেলিত এই মহল্লাটি। পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের নাগরিকদের চাইতে ১২নং ওয়ার্ডের খান সড়কের বাসিন্দার তৃতীয় শ্রেনীরও নিচে। এমন রাস্তা দিয়ে কিভাবে আমরা হেঁটে চলাচল করবো। একটু বৃষ্টি হলেই পায়ের জুতা হাতে নিয়ে যেতে হয়। আমরা এ কষ্ট থেকে রেহাই পেতে চাই। আমাদের দাবি এই রাস্তাটি যেন দ্রুত সংস্কার হয়।
এদিকে, ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৌর মেয়র মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রাস্তার বেহাল অবস্থা সম্পর্কে ১২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পৌর শহিদ জাবেদ স্কুলের সাবেক শিক্ষক মো. শাহজাহান খান (শাহজাহান মাষ্টার) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোট এলেই এই সড়ক সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু নির্বাচন পার হয়ে গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। শিগগিরই এ রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি পৌর মেয়র মহোদয় কাছে।
খান সড়কের বাসিন্দা ও চাঁদপুর জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নাইমুল ইসলাম বলেন, পায়ের সমস্যা হাঁটতে অনেক কষ্ট হয়। রিকশা দিয়ে আসা যাওয়া করলেও মাজা ব্যথা করে। রাস্তাটি মেরামত করা হলে এই মহল্লার মানুষের অনেক উপকার হতো।
খান সড়কের বাসিন্দা ও বেসরকারি হাসপাতালে সিনিয়র নার্স হাসিনা বেগম বলেন, ডেলিভারি রোগীসহ গুরুত্ব আহত রোগীদের কে হাসপাতাল নিতে অনেক কষ্ট হয়। সড়কটির সংস্কারের জোড় দাবি জানাচ্ছি।
ব্যাংকার মো.কাওছার আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে ঠিক মত যেতে পারে না। রেললাইন উপর দিয়ে বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। ভয় থাকি কখন ট্রেন চলে আসে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশেষ অনুরোধ করছি এই সড়কটির দ্রুত সংস্কারের জন্য।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান দর্জি বলেন, এ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সাবেক পৌর মেয়রের আমলে একাধিকবার মাসিক মিটিংয়ে কথা বলছি। সংস্কারের উদ্যােগ নেয়াও হয়েছিলো।পরে কি কারণে তিনি রাস্তাটি মেরামত করেনি তা আমার জানা নেই। বর্তমান মেয়র মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল মহোদয়ের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭–২২) নাম্বারে ফোন করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভাব হয়নি।
ফম/এমএমএ/


