শাহরাস্তি (চাঁদপুর): চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও পথসভা শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যেন রূপ নেয় গণজোয়ারে।
উপজেলা সদর থেকে মাজার রোড পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কজুড়ে ধানের শীষের পতাকা, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। ব্যারিস্টার মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শুধু স্থানীয় রাজনীতির জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন স্মরণ করিয়ে দেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন কিংবা নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি সময়েই জনগণের ঐক্যই ছিল পরিবর্তনের মূল শক্তি। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই শক্তির ধারক হিসেবে ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই দলের প্রধান অঙ্গীকার। তাঁর ভাষায়, বিএনপি জনগণের আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে আবারও অধিকার ফিরিয়ে আনবে।
শাহরাস্তির সভায় প্রবীণদের উপস্থিতির সঙ্গে তরুণদের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে তৈরি করেছে এক ভিন্ন পরিবেশ। রাজনীতির মাঠে নতুন প্রজন্মের আগমন এবং প্রবীণদের প্রত্যাশা-উভয়কেই একসঙ্গে ধারণ করতে পারলেই বিএনপির ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় হবে। বক্তৃতায় কামাল উদ্দিন বিশেষভাবে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য। তাঁর প্রতিশ্রুতি-এ আসনের প্রতিটি মানুষ যেন নিজের ভোটাধিকার ভোগ করতে পারে এবং উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পায়।
চাঁদপুর-৫ আসন রাজনৈতিকভাবে সবসময় আলোচনায় থাকে। এখানে জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এখনও প্রবল। স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত এ কর্মসূচি কেবল একটি স্মারক অনুষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশলের পরীক্ষাক্ষেত্রও বটে। সমাবেশ শেষে একটাই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে থাকে-“জনগণের ঐক্যই পরিবর্তনের শক্তি।” এই স্লোগান কেবল সমাবেশের নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও একটি নতুন দিক নির্দেশ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সামনে এখন তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—জনআস্থা পুনরুদ্ধার, সংগঠন পুনর্গঠন এবং আন্দোলনকে লক্ষ্যভিত্তিক করা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে গণজোয়ার তৈরির সক্ষমতা দলকে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের সমর্থন আদায় এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো এখন সময়ের দাবি। শাহরাস্তির অভিজ্ঞতা তাই জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি দিকনির্দেশক মডেল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
শাহরাস্তি পৌরসভা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের (সিএ) এর সভাপতিত্বে সেক্রেটারি ফারুক হোসেন মিয়াজীর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ সোহেল, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম রিপন, শ্রমিক দলের নেতা রফিকুল ইসলাম, মনির মিয়াজি এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক মেহেরাজুন্নবী রাজু, পৌর নেতা এ.এস.এম. লিটনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
সবশেষে বলা যায়, শাহরাস্তির র্যালি ও পথসভা বিএনপির জন্য শুধুই একটি বার্ষিকী অনুষ্ঠান নয়। এটি হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের নতুন প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। জাতীয় রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এই বার্তা স্পষ্ট-যতক্ষণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ, পরিবর্তনের শক্তি অটুট থাকবে। আর সেই শক্তিকে ভিত্তি করেই বিএনপি আবারও জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে।
ফম/ফয়েজ/ এমএমএ/



