জামিনে এসে মামলার বাদীসহ স্বাক্ষীদের হুমকী

নিরাপত্তাহীনতায় বাদী ও স্বাক্ষীরা

ছবি: সংগ্রহীত।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে মোল্লাডহর গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের মোস্তফা সরদারের ছেলে সুজন (২৫), বাসু মিয়ার ছেলে রুবেল (৩২), জবেদ আলীর ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ফারুক (২০) এর  উপর হামলা চালায়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সুজন, রুবেল, আলমগীর সরদার, মো. সাদেক মিয়া, আবুল ফারুক’কে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে কয়েকজনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল মীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জিআর ১০৮, তারিখ ১ এপ্রিল ২০২১।

আসামীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী হওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার ২নং আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে পুলিশ আটক করে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে আসে। ঘটনার মুল নায়ক সন্ত্রাসী রাহেম আলী ও রাব্বির পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তৎকালিন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা থাকার পরও তারা পালিয়ে বিদেশ চলে যায়।

জানাযায়, ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের আপন চাচা হলো রাহেম আলী। অন্যান্য আসামীরাও তার আত্মীয়। মূলত; ফ্যাসিস্ট সরকার আর ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বলে তারা এলাকায় দাফট খাটিয়ে মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাতো। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ কিছুই বলতোনা।

মামলার বাদী ও অন্যান্য আসামীরা জানান, সম্প্রতি সময়ে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে এসে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারো বাদীসহ মামলার অন্যান্য স্বাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে রাহেম আলী রাব্বি। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো.মজিবুর রহমান বলেন, রাহেম আলী বিদেশ থেকে দেশে এসেছি আমি শুনেছি। তবে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, বড়কুল ইউনিয়নে অপরাধ করে কেউ পার পাবেনা, সে যদি আপন জনো হয়। বাদী পক্ষ বা স্বাক্ষীদের হুমকী ধমকি দেয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
অপর দিকে মামলার বাদী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেছিলেন, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের কোন আশ্রয় হবেনা। তা হলে কেন সন্ত্রাসী রাহেম আলী দীর্ঘ দিন পলাতক থেকে প্রকাশ্যে এসে হুমকী ধমকী প্রদান করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, এমন হুমকী-ধমকীর খবর আমাদেরকে কেউ জানাইনি। যদি কেউ অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম