চাঁদপুর শহরে মশা-মাছির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

চাঁদপুর: চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় মশার উপদ্রব। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করেও মশার কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ১২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাড়া মহল্লাতে আছে ছোট ছোট ডোবা, নালা ও বদ্ধ ড্রেন। এসব ডোবা নালার ওপর দিয়ে ঝাকে ঝাকে মশা-মাছি উড়ছে। নিউ ট্রাক রোডের খান সড়কে ডাস্টবিন না থাকায় যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিন ধরে পরে থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা অপসারণের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।রাস্তাঘাটের পাশের ছোট ছোট ঝোঁপঝাড়গুলোও অপরিচ্ছন্ন। ড্রেনগুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে ওইসব স্থানে পানি জমে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। আর সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।

খান সড়কের বাসিন্দা মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে আবর্জনার স্তূপ। সেখান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি বেড়েছে মশা-মাছি।

খান সড়কের বাসিন্দা রোজিনা বেগম নামে এক গৃহিণী জানান, ভ্যাপসা গরম,অতিরিক্ত লোডশেডিং এর মধ্যে মশা-মাছি। মশা-মাছির জন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে মশার কামড়ে ঘরে থাকাই দায়।

বঙ্গবন্ধু রোডের বাসিন্দা মুক্তা বেগম নামে এক গৃহিণী জানান, ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে রাখলেও মশার হাত থেকে রেহায় পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েল, স্প্রে দিয়েই কিছু হচ্ছে না। রাতে মশা আর দিনে মাছির উৎপাত নিয়েই আমরা বসবাস করছি।

বিষ্ণুদি মাদ্রাসা রোডে এসএসসি শিক্ষার্থী বলেন, মশার কারণে দিনের বেলায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয় তাতেও মশা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, মশা মারার ওষুধ ছিটালেই যে এর উপদ্রব কমে আসবে সেটি নিয়েও কিছুটা সংশয় রয়েছে। প্রতিবছরই স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিব দর্জি মশা নিধনের জন্য স্প্রে করে একাধিকবার। তারপরও মশার উৎপাত থেকেই যায়। এর কারণ হলো যখন ওষুধ ছিটানো হয় তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কীটনাশক ডোজ সঠিক প্রয়োগ হয় না। কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে। এতে মশা না মরে উল্টো কীটনাশকে সহনশীল হয়ে যায়।

শাহী ফার্মেসির মালিক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, মশা-মাছি নিধনে পৌরসভা থেকে স্প্রে করে থাকে। সেই সঙ্গে মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড়, ড্রেন, নালা আবর্জনা পরিস্কার করা উচিত। পানি জমে থাকে এমন বস্ত যেমন- ডাবের খোসা, ফুলের টব পরিস্কার রাখা। মশার কামড়ে সাধারণ জ্বর, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ হতে পারে।

মিশন রোড এলাকার বাসিন্দারা মো. নুরুল ইসলাম ডাক্তার বলেন, বাড়ির আঙিনা পরিস্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কয়েল ও অ্যারোসল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।এছাড়া বাসাবাড়ির ছাদ বাগানের দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এ ডাক্তার।

চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিবুর রহমান দর্জি বলেন, মশা নিধন ওষুধ ছিটানো হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের কাজ চলমান। এছাড়া স্প্রে করার যন্ত্র দিয়েও ড্রেনগুলোতে মশা-মাছি মারার ওষুধ দেয়া হচ্ছে।

ফম/এমএমএ/

শাহ্ আলম খান | ফোকাস মোহনা.কম