চাঁদপুরে এই প্রথম সরকারিভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন

চাঁদপুর : চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা পুরুষ ওয়ার্ডে চলছে এটি স্থাপনের জন্য কর্মযজ্ঞ।

আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হবে বলে সোমবার (১৬ জুন) রাতে
জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি জেনারেল হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপিত হলে একদিকে ঢাকা কিংবা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ কমে যাবে। অন্যদিকে চাঁদপুরের সাধারণ মানুষের কিডনি রোগ চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে। এই ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিটের মাধ্যমে সপ্তাহে অসংখ্যবার ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতি বেডে দৈনিক ২-৩ বার ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে।

এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা পুরুষ ওয়ার্ডের ভিতরের দুইপাশে ডায়ালাইসিস ইউনিট করায় হাসপাতালে রোগীর বেড জটিলতা দেখা দিয়েছে। যার কারণে ওয়ার্ডে রোগী সংকুলান না হওয়ার বারান্দা ও করিডরে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে হাসপাতালে আগত রোগীদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে রোগীরা বারান্দা ও করিডরে চিকিৎসা নিচে পারছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান রোগীরা।

দ্বিতীয় তলায় করিডরে থাকা রোগী লোকমান হোসেন বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি কিন্তু কোন সিট খালি নেই। বারান্দার করিডরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য শুয়ে থাকা যায় না। এ ভাবে কি কোন চিকিৎসা নেয়া যায়। তাই ভাবছি প্রাইভেট কোন হাসপাতালে চলে যাবো।

একই স্থানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জালাল আহমেদ বলেন, এই হাসপাতালে বেডের চাইতে রোগী সংখ্যা অনেক বেশি। রোগীদের আলাদা বেড ও বেড বৃদ্ধি করা হলে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তি কমবে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারটি চালু হলে জেলার মানুষ সুফল পাবে। এতে করে রোগীদের খরচ অনেক কমে যাবে। কিডনি ডায়ালাইসিস করার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা ফি নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের জন্য যায়গা খুব কম। ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারটি করায় পুরুষ ওয়ার্ডে যায়গা কমে গেছে। হাসপাতালে নতুন ভবন প্রয়োজন। ভবন না হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানো সম্ভব হবে না।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম