চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে উজ্জীবিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ঈদুল আযহা পরবর্তী সময়

চাঁদপুর:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ আলোচনায় আসার আগ থেকেই চাঁদপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রাণবন্ত ও সক্রিয় হতে শুরু করেছে মাঠের রাজনীতি। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আযহার পরে প্রার্থীরা ভোটার ও সাধারণ জনগণের কাছে যেতে শুরু করেছেন। আবার কোনো প্রার্থী তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু করেছেন প্রচারণা।

গত ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন হয়। পরদিন থেকে নির্বাচনী এলাকায় শুরু হয় রাজনৈতিক নেতাদের আগমন। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় কৌশল অবলম্বন করে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া): এই আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি গত ১০ জুন কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে মিলনায়তনে উপজেলা উলামা দলের নেতাদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বক্তব্য দেন। এই আসেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী। তিনি ১১ জুন সকালে উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মোশাররফ হোসেন এখনো প্রচারণায় আসেননি।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ): এই আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ড. তানভীর হুদা ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিন। এই দুই প্রার্থী ৫ আগস্টের পর থেকেই এলাকায় সক্রিয়। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ঈদ পরবর্তী সময়ে ড. জালাল একাধিক ইউনিয়ন ও পথসভায় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবদুল মোবিন। তিনি মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ঈদ পরবর্তী সময় গত ৯জুন মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদি উত্তর ইউনিয়নে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) : এই আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আজম খান। আজম খান প্রবাসী। ঈদ পরবর্তী সময়ে নেতাকর্মীদের সাথে চাঁদপুর শহরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং নিজ এলাকায় ছিলেন মোস্তফা কান সফরি। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া নির্বাচনী এলাকায় ঈদের আগ থেকে সক্রিয়। তিনি ঈদ পরবর্তী সময় হাইমচর ও সদরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের জেলার সাবেক সভাপতি শেখ মুহা. জয়নাল আবেদীন নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলে ঈদ পরবর্তী সময়ে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং লোকজনের খোঁজ খবর নিয়েছেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : এই আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ এবং উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ হান্নান। ৫ আগস্টের পর থেকে তারা রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। ঈদ পরবর্তী সময়ে তারা উভয়ে নেতাকর্মীদের মতবিনিময় করেছেন। এই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী জেলা আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। তিনি ঈদ পরবর্তী এবং আগ থেকে উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি): এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মমিনুল হক। এছাড়াও রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। প্রকৌশলী মমিনুল হক ঈদ পরবর্তী সময়ে শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী ও টামটা ইউনিয়নে নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তবে খোকন ঈদ পরবর্তী সময়ে এলাকায় আসেননি। অপরদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন ঈদুল আযহার পরদিন ৮ জুন শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন এবং একই দিন শিবিরের বর্তমান এবং সাবেক নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের কিছু সংখ্যক নেতা ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয় থাকলেও ঈদুল আযহা পরবর্তী সময়ে দেখা যায়নি।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম