কাজ না করলে সংসারের চাকা বন্ধ থাকে জীবনের

চাঁদপুর: নাম জীবন ঘোষ। বয়স আনুমানিক ৫৩ হবে। হালকা পাতাল গড়ন। পেশায় হকার। সে সময় যেটি সুবিধামত হয়, সেই খাবার জাতীয় পন্য বিক্রি করেন। বিক্রির স্থানও নির্ধারণ নেই। যেখানে মানুষের ভীড় জমে সেখানে তিনি উপস্থিত হন। তিনিসহ পরিবারের সদস্য ৫জন। কোনভাবে একদিন কাজে না যেতে পারলে সংসারের চাকা বন্ধ। পরিবারের উপার্জন করার মতো ব্যাক্তি তিনিই। তবে তার কাজে সহযোগিতা করেন স্ত্রী।

জীবন ঘোষ চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজার ঘোষ পাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম সম্ভুনাথ ঘোষ। ঈদুল ফিতরের পঞ্চম দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তার সাথে দেখা হয় তিন নদীর মোহনা শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে। মোলহেডের একেবারে শেষ প্রান্তে পায়ের দুটি জুতা ও আর গলায় থাকা গামছা মাটিতে রেখে বসেছেন দই বিক্রি করতে। হঠাৎ তার দই বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গেলেও আবার পিছনে আসতে হয়। তার সাথে বসে পড়ি। শুরু হয় তার সাথে গল্প করা। প্রথমে কথা বলতে চাননি। পরিচয় জানেন। তারপর কথা বলতে শুরু করেন। তাকে দেখে মনে হয়েছে একজন সহজ সরল মানুষ।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো দই বিক্রি করে প্রতিদিন কত আয় হয়? বললেন, ‘৪-৫শ’ টাকা। কোনদিন কমও হয়। এই আয় দিয়ে সংসার চলে? কি আর করা অন্য কোন কাজ করতে পারিনা। আমি বেশী ওজন নিতে পারিনা, বেশি শক্ত কাজও করতে পারি না। যে কারণে হকারি করে দই বিক্রি করি।’

জীবন ঘোষ বলেন, ‘আগে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করতাম। কিন্তু যখন ডিমের দাম বেড়ে গেল, তখন থেকে ডিমের ব্যবসা বন্ধ। কারণ একটি ডিম ক্রয় মূল্য এখন ১২-১৫টাকা। বিক্রি করব কত? তাই বাধ্য হয়ে এখন দই বিক্রি করছি। কারণ এই ব্যবসা আমাদের বংশের লোকদের পুরনো।’

দই কিভাবে তৈরী করেন এবং দুধ কিভাবে সংগ্রহ করেন? জীবন ঘোষ জানালেন, ‘দুধ চরের ব্যবসায়ীরা বাসায় দিয়ে যান। প্রতি কেজি ৬০টাকা। দই তৈরী করার পুরো কাজটি করেন আমার স্ত্রী। ভোর ৪টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বড় স্টেশন আসি। ট্রেনের যাত্রীদের কাছে কিছু বিক্রি করি। পরে বাকী সময় মোলহেডে থাকি। ৬০-৭০ কাপ দই আনি। সবগুলোই বিক্রি হয়ে যায়।’

ব্যাক্তিগত জীবন সম্পর্কে জীবন বলেন, ‘স্ত্রী, মা, দুই কন্যাসহ ৫ জনের সংসার। আমি পড়া লেখা করিনি। তবে আমার দুই কন্যা আছে তাদেরকে পড়াই। একজন উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং একজন পুরান বাজার কলেজে। তাদের পড়ার খরচ চালাতে আমার বেশী কষ্ট হয়। এরপর বর্তমানে জিনিসপত্রের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারিনা। কাজ করে দুপুরের পরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই দুপুরের খাবারের পরে ঘুমিয়ে থাকি। আবার ভোর বেলায় বেরিয়ে পড়ি দই বিক্রির কাজে।’

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম