চাঁদপুর পৌর নির্বাচন: আলোচনার কেন্দ্রে কাজী ইব্রাহীম জুয়েল

চাঁদপুর: চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় সমীকরণ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে চলছে আলোচনা। এর মধ্যেই বারবার আলোচনায় উঠে আসছে একটি নাম-কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সক্রিয়তা, দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা, একাধিকবার কারাবরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড-বহুমাত্রিক এই পরিচয়ের কারণে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহলে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।

কিন্তু কে এই ইব্রাহীম জুয়েল? রাজনীতির বাইরে তাঁর পরিচয় কী? আর আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে কেনইবা তাঁর নাম নিয়ে এত আলোচনা?

চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী কাজী পরিবারের সন্তান কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল। ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। রাজনৈতিক পথচলায় দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে। পরে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন।

ছাত্ররাজনীতি পেরিয়ে যুক্ত হন জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। দায়িত্ব পালন করেন জেলা বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। পরবর্তীতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জুয়েলের আলাদা একটি অবস্থান তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দুঃসময়ে তাঁর সক্রিয়তা তাঁকে তৃণমূলের একটি অংশের কাছে পরিচিত করে তোলে।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায়ের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে মামলা ও কারাবাস। জুয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টিরও বেশি মামলা হয়েছে। ২০১৫ সালে টানা প্রায় ছয় মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, কারাবন্দি থাকার সময়ও সহবন্দী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও গণমাধ্যমেও রয়েছে তাঁর সক্রিয়তা। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি।

বর্তমানে দৈনিক চাঁদপুর সময়, চাঁদপুর টাইমস এবং দৈনিক মতলবের আলো-এর সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বে রয়েছেন কাজী ইব্রাহীম জুয়েল। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য হিসেবেও তিনি যুক্ত।

শুধু রাজনীতি, ব্যবসা কিংবা গণমাধ্যম নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বায়তুল কাদের জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি, ফিরোজা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং আল হেরা একাডেমির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এর পাশাপাশি রোটারি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ডায়াবেটিক সমিতি এবং চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

করোনাকালীন সময়, বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগের কথাও সামনে আসে তাঁর সামাজিক পরিচয় প্রসঙ্গে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, বিশেষ করে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সংকটে পড়লে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের পরিচয় কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী-এই চারটি পরিচয়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর বর্তমান অবস্থান।

আর এই বহুমাত্রিক পরিচয়ই আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর নামকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

পৌরবাসীর প্রত্যাশার জায়গাটিও এখন অনেকটাই স্পষ্ট-আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব একটি পৌরসভা। সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা, সততা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এই বাস্তবতায় কাজী ইব্রাহীম জুয়েল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন-সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

তবে প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনও স্পষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনের মাঠে থাকবেন কি না, থাকলে কোন রাজনৈতিক সমীকরণে থাকবেন এবং ভোটের মাঠে তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয় কতটা প্রভাব ফেলবে-এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে।

তবে একটি বিষয় এরই মধ্যে স্পষ্ট-চাঁদপুর পৌর নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের নাম এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম