চাঁদপুর: চাঁদপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে নির্ধারিত আসনের কয়েক গুণ বেশি প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদেশগামী কর্মীরা। তিন দিনের এই প্রশিক্ষণে অনেককে দাঁড়িয়ে, দরজা-জানালার পাশে এমনকি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও অবস্থান করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সার্টিফিকেট পেলেও প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
সরেজমিনে টানা চার দিন টিটিসিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি প্রশিক্ষণার্থী। কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউ দরজা-জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ক্লাস করছেন। অনেকে জায়গা না পেয়ে বাইরে অবস্থান করছেন।
প্রশিক্ষণার্থী রিফাত মজুমদার বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আসছি, কিন্তু সিট পাচ্ছি না। বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতরের কথাও ঠিকমতো শুনতে পারছি না। তাহলে এই প্রশিক্ষণ কীভাবে কাজে আসবে?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রশিক্ষণার্থী জানান, দ্বিতীয় দিন এসেও তিনি বসার জায়গা পাননি। বাইরে দাঁড়িয়ে ক্লাস শুনতে হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণে কী শেখানো হচ্ছে, তা পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।
টিটিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ব্যাচে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নেওয়ার কথা এবং ছয়জন প্রশিক্ষক পাঠদান করেন। কিন্তু চাঁদপুর টিটিসিতে নির্ধারিত আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। শুধু আগস্ট মাসেই ৮০০ আসনের বিপরীতে ২ হাজার ২১০ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি টিটিসিতে ওয়াশরুম ও সুপেয় পানির সংকটও রয়েছে। প্রশিক্ষণার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্ষগুলো ছোট হওয়ায় অনেককে বাইরে থেকে ক্লাস করতে হচ্ছে। ওয়াশরুমের অবস্থাও ভালো নয় এবং পানির সরবরাহে সমস্যা রয়েছে।
তবে টিটিসির অধ্যক্ষ শিরিন আক্তার বলেন, অতিরিক্ত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য চেয়ার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ক্লাসে বসানোর পরও অনেকে বাইরে বাতাস খেতে বা ঘোরাফেরা করতে বেরিয়ে যান। প্রশিক্ষণ ছাড়া শুধু সার্টিফিকেট নেওয়ার কোনো মূল্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়ায় সরকারি প্রক্রিয়ায় কর্মী যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দ্রুত বিদেশ যেতে আগ্রহীদের চাপ বেড়েছে। এ কারণে প্রশিক্ষণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে এই তিন দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিদেশের ভাষা, আইন, কর্মপরিবেশ এবং প্রবাসী কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। তাই নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি না করে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ফম/এমএমএ/


