চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ডাস্টার দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কোমরের নিচে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগের পর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ১১ আগস্ট উপজেলার ১৪ নম্বর ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ১১৭ নম্বর পশ্চিম পোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার (১৮আগস্ট) বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার, সহপাঠি ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মারধরের শিকার মারিয়া আক্তার (৯) ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পশ্চিম পোয়া গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষক একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন। সে ওই বিদ্যালয়ে গত প্রায় ১৫ বছর সহকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
সরেজমিন বিদ্যালয় ও মারধরের শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরে ওই বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এ অংশ গ্রহণ করে কেউ কেউ কৃতকার্য হয়নি। এতে পড়ালেখার মান ভালো করতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে। ফলে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্কুলে কড়াকড়ি বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এরপর গত ১১ আগস্ট বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী হাতের লেখা না এনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তারকে ডাস্টার দিয়ে তার পিছনে কোমরের নিচে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থী অসুস্থবস্থায় বাড়িতে গিয়ে জানালে তার মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেয় এবং মারধরের শিকার মারিয়া আক্তারকে চাঁদপুর জেলা সদরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করে। বর্তমানে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক (অর্থোপেডিক্স) ডাক্তার সাইফুল ইসলাম খানের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই শিক্ষার্থী। এক্স-রে রিপোর্ট ও চিকিৎসকের ভাষ্যমতে শিক্ষার্থীকে বেধড়ক আঘাতের কারনে তার কোমরের নিচে রগে ও মাংসে মারাত্মক জখম হয়েছে।
বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে, সে আবেগ আপ্লুত হয়ে জানায়, স্যার আমাকে যেভাবে মেরেছে, স্যারের যেন কোন ক্ষতি না হয়। তবে স্যারে যেন অন্য কাউকে এভাবে আর না মারে।
মারিয়ার মা ফেরদৌসী বেগম বলেন, আমার সন্তান অন্যায় করলে শিক্ষক শাসন করতে পারেন। কিন্তু এভাবে কোমরের নিচে আঘাত করতে পারেন না।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ না হওয়ায় পাঠদানে কিছুটা কড়াকড়ি করা হচ্ছিল। মারিয়া বাড়ি থেকে হাতের লেখা না আনায় তাকে মারধর করা হয়েছে। হাতে মারলে বেশি ব্যথা পাবে-এ কারণে কোমরের নিচে হালকাভাবে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজনা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীর মা মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে এসে ঘটনাটি তদন্ত করে গেছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।



