চাঁদপুর : ফলাফলের খাতায় তিনটি সংখ্যা-১২০৯, ১২০২ ও ১১৯৯। এর পেছনে আছে তিনটি মুখ, তিনটি স্বপ্ন। কেউ চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান, কেউ কম্পিউটার প্রকৌশলী হয়ে প্রযুক্তির দুনিয়ায় কাজ করতে চান, আবার কেউ পাড়ি দিতে চান মহাকাশের রহস্যময় জগতে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুর জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে রূপকথা সাহা জয়া, নাফিমুল হাসান নিহাল ও মারিয়া মাহজাবিন খান।
সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসব তথ্য জানা যায়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে কথা হয় জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া এই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। সাফল্যের আনন্দের পাশাপাশি তাদের চোখে এখন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।
সবার ওপরে রূপকথা : চাঁদপুর জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রূপকথা সাহা জয়া। জিপিএ-৫-এর সঙ্গে তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ২০৯। সাফল্যের পরও রূপকথার লক্ষ্য স্থির। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চান তিনি। চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন এই কৃতী শিক্ষার্থী।
রূপকথার বাবা অধ্যাপক জীবন কানাই সাহা চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক। মা রূম্পা রানী সাহা গৃহিণী। চাঁদপুর শহরের মিশন রোড বাগানবাড়ী এলাকার ইন্দ্রলোক নামের বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন রূপকথা।
দ্বিতীয় নিহাল, স্বপ্ন প্রযুক্তির দুনিয়ায় : জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিমুল হাসান নিহাল। জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ২০২। নিহালের স্বপ্ন কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রকৌশলী হওয়া। প্রযুক্তির জগতে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কিছু করতে চান তিনি।
নিহালের বাবা মঞ্জুরুল আলম চট্টগ্রামে মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা নাছিমা বেগম গৃহিণী। চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন নিহাল। তাদের গ্রামের বাড়ি হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী গ্রামের খলিফা বাড়ি।
তৃতীয় মারিয়া, চোখ মহাকাশে: জেলায় তৃতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে আল-আমিন একাডেমি ছাত্রী ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া মাহজাবিন খান। জিপিএ-৫-এর সঙ্গে তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ১৯৯। মারিয়ার স্বপ্ন আরও দূরের- জ্যোতির্বিজ্ঞান। উচ্চশিক্ষা নিয়ে এই বিষয়ে গবেষক হতে চান তিনি। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যয়ও রয়েছে তার।
মারিয়ার বাবা মো. মোশতাক আহমেদ খান একজন ব্যবসায়ী। মা শেখ খাদিজা বেগম ফরক্কবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। বাবা-মায়ের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোডের প্রিমিয়ার টাওয়ারে বসবাস করেন মারিয়া।



