কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্ৰামে জমি বিক্রয় নিয়ে এক প্রবাসী পরিবারকে বারবার আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় প্রবাসী ভুক্তভোগী পরিবার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ন্যায় বিচর দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী নিয়ে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গিয়াস উদ্দিন এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। মামলাবাজ গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি তার পরিবারের আপন ভাই ও বোনেরা । তার সৎ মায়ের কাছে জমি বিক্রি করে বলে ১২ লক্ষ টাকা নেয়, জমি রেজিস্ট্রি না করে তালবাহানা শুরু করেন। সৎ মায়ের জমি রেজিস্ট্রি না করে টাকা আত্মসাৎ করার জন্য গিয়াস উদ্দিন তার মাথা সড়ক দুর্ঘটনায় ফাটিয়ে আদালতে মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে আপন সৎ মা বিলকিস বেগম, বোন মিশু মুক্তা, ভগ্নীপতি প্রবাসী বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। কোন মারামারি, প্রতিহিংসামূলক কোন কিছুই ঘটনা এলাকায় কিছু হয়নি।
তার আপন ছোট ভাই মৃত খোকনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার জানান, আমার স্বামী প্রবাসী থাকাকালীন সকল উপার্জনের টাকা তার একাউন্টে দেওয়া হতো। আমার স্বামী মৃত্যুর পর অনেক টাকা ও তিনি আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে টাকার অভাবে সৌদি আরবে তেমন ভালো চিকিৎসা না নিতে পারায় মৃত বরণ করেন। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশী সরকার এককালীন ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেয় আমাদেরকে। ওই টাকা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাবে গিয়াস উদ্দিন নিয়ে যায়। এছাড়াও আমার স্বামীর বাড়ির জায়গায় জোরপূর্বক ভাবে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে ভাসুর গিয়াস উদ্দিন।
গিয়াস উদ্দিনের আপন বোন মিশু মুক্তা বলেন, আমার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন আমার মায়ের কাছে ১২ শতাংশ জমি বিক্রি করবে বলে আমার স্বামী প্রবাসী বাবুল হোসেনের কাছ ১২ লক্ষ টাকা নেয় এবং তিনটি বায়না স্ট্যাম্প রয়েছে। টাকা দেওয়ার সময় আমার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন ওনার বন্ধুবান্ধব ও আমাদের আত্মীয়-স্বজন ও সাক্ষী রয়েছে। আমার স্বামী প্রবাস থেকে এসে আমার মায়ের ।জমি রেজিস্ট্রি কথা বললে তিনি জমি না দেওয়ার জন্য অপরাগত প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আমার স্বামী টাকা দাবি করলে, আমার স্বামীকে হুমকি ধামকি শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মাথা ফাটিয়ে আদালতে মিথ্যা আশ্র নিয়ে আমাদেরকে হয়রানি উদ্দেশ্যে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আমার মা বিলকিস বেগম, স্বামী বাবুল হোসেন ও আমাকে এজাহারভুক্ত আসামি করেন। ওই মামলায় আমি এক সপ্তাহ কারাভোগ করি। আমরা ঢাকায় থাকি, সে এলাকার বাইরে আত্মগোপনে থাকে। বাড়িতে কোন মারামারি ঘটনা হয়নি। গিয়াস উদ্দিন আমাদের জমি ও টাকা না দেওয়ার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।
আলমগীর হোসেন ও আলী হোসেন জানান, গিয়াস উদ্দিনে জমি বিক্রি করবে বলে ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছে বাবুল হোসেন কাছ থেকে। ওই টাকা চাইলে গিয়াস উদ্দিন মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনাকে মারামারির ঘটনা সাজিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এলাকায় কোন মারামারি এমন কোন ঘটনা হয়নি।
এদিকে গিয়াস উদ্দিন এলাকা পাওয়া যায়নি এবং আত্মগোপনে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফম/এমএমএ/



