চাঁদপুর : চাঁদপুর সদরের হোছাইনপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের জানালার গ্রীল কেটে টেবিলের ড্রয়ার থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন। তবে চুরির ঘটনায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখাগেছে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা অক্ষত। কিন্তু ওই কক্ষের পিছনের জানালার গ্লাস ভাঙা এবং গ্রিল কাটা। সিসিটিভির মনিটর মাঝখান এবং দেয়াল ঘড়ি ভাঙা। অধ্যক্ষের টেবিলের ড্রয়ারের তালাও কাটা। কোন ভাঙার চিহ্ন নেই। প্রতিষ্ঠানের লোকজন চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষনিক ঘটনাটি জানাজানি হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ২৭ ডিসেম্বর দিনগত রাত ১০টা থেকে পরদিন ২৮ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ২৮ ডিসেম্বর মাদ্রাসার পিয়ন মো. নাজির আহম্মদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টি মাদ্রাসা কমিটির সাথে বসে সমাধান করার পরামর্শ দেন। চুরি হওয়া কক্ষের দরজার চাবি ৩টি। একটি অধ্যক্ষের কাছে থাকে, একটি পিয়ন নাজির এবং অপর চাবিটি থাকে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনের কাছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন মাল জানান, চুরির ঘটনা জানতে পেরে আমরা অধ্যক্ষের কক্ষ এসে দেখেছি। সাধারণভাবে বুঝতে পেরেছি ঘটনাটি কক্ষের ভিতর থেকে ঘটিয়ে চুরির নাটক সাজিয়েছে। কারণ গ্লাস ভাঙা বাহিরে গিয়ে পড়েছে। পুলিশ তদন্তে আসলে তখন আমিও উপস্থিত ছিলাম। উপস্থিত সকলের মনে হয়েছে চোর প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীন কেউ। যে কারণে অধ্যক্ষকে বসে এটির সমাধান করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। ঘটনার চারদিন হলেও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন জানান, ঘটনার রাত আনুমানিক ৯টার পরে গ্লাস ভাঙার আওয়াজ শুনতে পাই। তবে কাউকে দেখা যায়নি। কারণ ওই সময় মাদ্রাসার সামনের খোলা জায়গায় স্থানীয় যুবকরা বেটমিন্টন খেলছিল। তাদের কথাবার্তার শব্দ এবং আমার দোকানে রেকডিং ওয়াজ চলছিল। যে কারণে গ্লাস ভাঙার শব্দ কাছের কেউ শুনতে পায়নি।
খেলতে আসা যুবক রাকিব প্রধানিয়া বলেন, আমরা ৯টার পরে ১০-১২জন খেলতে এসেছি। রাত সাড়ে ১০টায় চলেগেছি। ওই সময় মাদ্রাসার ভিতরে ওই কক্ষে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনকে দেখেছি।
মাদ্রাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বলেন, অধ্যক্ষ আগে পরে ১০ হাজার টাকা থাকলেও আমার কাছে রেখে যান। কিন্তু মাদ্রাসা বন্ধের দিন অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর টাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানান নি। চুরি হওয়ার পর তিনি বলছেন ড্রয়ারে ১লাখ ৭৫ হাজার টাকা রেখেগেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (এসইডিপি) প্রকল্পের ৫লাখ টাকা অনুদান আসে মাদ্রাসার নামে। এই টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ১লাখ এবং অসহায় মেধাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা। চুরির ঘটনার পর অধ্যক্ষ বলছে এই টাকাই চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই রহস্য জনক। তার কাছে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে টাকা খাতওয়ারি ব্যয় করার কথা বললেও তিনি নানা কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা ১৮ ডিসেম্বর বন্ধের পূর্বে তিনি ব্যাংক থেকে ২লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। সেখান থেকে ৫০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকী ১লাখ ৭৫হাজার টাকা টেবিলের ড্রয়ারে রেখেগেছেন। কিন্তু টাকা রাখার বিষয়টি তিনি ছাড়া কেউই জানেন না। মাদ্রাসার নানা সমস্যার কারণে তিনি টাকাগুলো বন্টন করেননি। প্রতিষ্ঠান খোলা হলে বিতরণ করতেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার রাত ৮টার পর সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ওই সময় মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ ছিল। এটি যদি কোন ধরণের পরিকল্পিত হয়, তাহলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ওই কক্ষের চাবি যেহেতু তিনজনের কাছে তাহলে তিনজনই জবাব দিহিতার মধ্যে আছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যে পরিস্থিতি দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাধান করতে হবে। যে কারণে অধ্যক্ষকে বলেছি তিনি যেন কমিটির লোকদেরকে নিয়ে বিষয়টি যেন সমাধান করেন।
ফম/এমএমএ/


