
খবর পেয়ে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত দুপক্ষের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তফসিল অনুযায়ী আজ (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত ৬৯ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সকাল ১০টার দিকে প্রতীক বরাদ্দের কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের দাবিকৃত প্রার্থীরা ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
তারা সময় করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন জানান। এ সময় দুপক্ষের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে, হালনাগাদের দাবিকৃত প্রার্থীদের সমর্থকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে এবং টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে সড়কে দুই পাশে ছোট-বড় কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল থেকে জানাগেছে, আগামী ৩১ মে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভোটগ্রহণ। গত ১১ ও ১৩ মে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রার্থীদের মধ্য একাংশ তিন হাজার ৪৩ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮০০ ভুয়া ভোটার থাকার কথা উল্লেখ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের দাবি জানান।
বিষয়টির সমাধান চেয়ে তারা সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে দরখাস্ত দেন। কিন্তু দরখাস্তের আলোকে কোনো সমাধান না পেয়ে অভিযোগকৃত প্রার্থীরা শুক্রবার (১৯ মে) দিনগত রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত ৬৯ জন প্রার্থীর মধ্যে সভাপতি পদে দুইজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদের চার জন ভোটার তালিকা হালনাগাদের দাবি জানান।
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে নিয়োজিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইকবালুজ্জামান ফারুক জানান, কয়েকজন প্রার্থীর কিছু উশৃঙ্খল সমর্থক নির্বাচন অফিসে এসে মূল্যবান কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দেয় এবং নিবার্চন কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ঐক্যমতের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন স্থগিত গোষণা করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সড়ক অবরোধ হওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছি। এখন সড়ক অবরোধ নেই। তাদের দাবীর বিষয়ে আগামী দুইদিন পরে উপজেলায় বসে সমাধান করা হবে।



