শনিবার বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ এবি সিদ্দিকের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

সাবেক সংসদ সদস্য ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মরহুম এবি সিদ্দিক। ছবি: সংগ্রহীত।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর): শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এবি সিদ্দিকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।
বৃহত্তর মতলবের আপামর গণমানুষের প্রাণের ব্যক্তিত্ব হিসেবে এবি সিদ্দিক সরকার সর্বজন স্বীকৃত নেতা ছিলেন। তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর তথা মতলবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়াও মরহুমের পরিবারের সদস্যরা ঐদিন মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করেছেন। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, সন্তান জাবেদ সিদ্দিকী, ভাইয়ের ছেলে তারিক মাহমুদ।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অবঃ) এ.বি. সিদ্দিক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। ১৯২৭ সালে বর্তমান চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া সরকার বাড়িতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাসান আলী সরকার।১৯৩৯ সালে বরদিয়া মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে মতলবগঞ্জ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৪৩ সনে মতলব স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে ডিস্টিংশন মার্কসহ ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে উত্তীর্ণ হন। মি. জিন্নাহ ‘উর্দুই কেবল উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে’ ঘোষণা দিলে যে সব ছাত্র তার প্রতিবাদ করে, তিনি তাঁদের অন্যতম।
শিক্ষকতা নিয়ে কিছুদিন থাকলেও ১৯৫১ সালে রাজকীয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদান করে বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে কর্মকাল কাটানোর পর পূর্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনীর রিক্রুটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীতে চাঁদপুর এলাকার এক হাজার যুবককে নিয়োগ দান করেন। ১৯৬৪ সনে স্বেচ্ছায় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে বাঙালির স্বার্থ সম্পর্কিত সকল আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৃহত্তম মতলব থানার সভাপতি ও চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে চাঁদপুর মহকুমার প্রধান সংগঠক হিসেবে মুক্তিবাহিনীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এমপিএ, এমসিএ ও এমপি নির্বাচিত হন।
তিনি কর্মজীবনে মতলব হাইস্কুল, মতলব কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। তিনি এলাকায় ২টি কলেজ, কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও অর্ধ শতাধিক প্রাইমারী স্কুল স্থাপন করেন। মতলবের বিখ্যাত ‘আন্তর্জাতিক উদরাময় কেন্দ্র’ স্থাপনে এবং প্রসারনে সক্রিয় ও অগ্রণী সহযোগিতা করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মতলব উপজেলা শাখা ও চাঁদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, মতলব দক্ষিণ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের প্রধান উপদেষ্টা ও মতলবগঞ্জ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মতলব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক স্মরণ সভার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
ফম/এমএমএ/

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম