
চাঁদপুর: ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম ঘোষনা করেছে সরকার। এই সময় জেলার ৪৩ হাজার জেলে কোন ধরণের কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়বে। তবে জেলেদের অভিযোগ তারা নিষিদ্ধ সময়ে জাটকা আহরণে বিরত থাকলে বাকী সময়ে তাদেরকে নৌ-পুলিশ ও অসাধু মৎস্য কর্মকর্তারা হয়রানি করেন। সরকারি খাদ্য সহায়তাও পান কম। মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ বলছে-হয়রানির অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ও আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলা তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার জেলে পল্লীর জেলেদের সাথে কথায় হয় তাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। এর মধ্যে অধিকাংশ জেলেরাই নৌ পুলিশের হয়রানি ও টাকা নেয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের নৌকা ও জাল ডাঙায় উঠিয়ে রাখার কাজে ব্যস্ত।
আনন্দ বাজার এলাকার জেলে শাহজালাল দেওয়ান বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর মাছ ধরার পেশায় আছেন। কিন্তু বর্তমানে নৌ পুলিশকে টাকা না দিলে নদীতে নামা যায় না। টাকা না দিলে তারা মামলা দিয়ে চালান দেয় এবং হয়রানি করে। আমরা নিষিদ্ধ সময় জাটকা ধরিনা। কিন্তু সরকার যে ৪০ কেজি করে চাল দেয়, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না।
একই এলাকার জেলে মো. হৃদয় বলেন, নদীতে এখন মাছ কম। আবার নামলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি। গত দু’দিন কোন মাছ পাইনি। রোজগার না হলে সংসার চলে না। চাল কেনার টাকা নেই। যে কারণে নদীতে নামতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদেরকে বিজিএফের চাল দেয়া হয় না।
সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাখুয়া জেলে পল্লী এলাকার জেলে ইসমাইল বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু আমাদের সংসার চলে না। কারণ যে পরিমান চাল দেয় তাতে সংসার চলে না। আমাদের ঋন আছে। নিষিদ্ধ সময়ে সরকার আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করলে সন্তানদের নিয়ে চলতে পারতাম।
একই এলাকার আরেক জেলে রহমান বলেন, আগে নদীত মাছ ধরার জন্য কোন টাকা দিতে হয়নি। কিন্তু এখন প্রতি নৌকায় মাছ ধরার জন্য মাসে নৌ পুলিশকে ১৯-২০হাজার টাকা দিতে হয়। তাদেরকে প্রতিমাসে টাকা না দিলে আমাদেরকে জেল দেয়। আমরা এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আগামী দুই মাস জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে নৌ পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে। কোন নৌ পুলিশ সদস্য কিংবা পুলিশের নাম করে কোন দালাল জেলেদের কাছ অনৈতিক সুবিধার প্রমান পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম জানান, মৎস্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জেলেরা যে অভিযোগ করেছে, এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি কোন মৎস্য কর্মকর্তা জড়িত থাকে তাহলে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ ও তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন করা হবে। আইন অমান্য করে কোন জেলে মাছ আহরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নদী উপকূলীয় ইউনিয়নে জেলেদের খাদ্য সহায়তা চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
ফম/এমএমএ/



