মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও সহ-সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবুর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খন্ডিত ভিডিও প্রকাশের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু।

লিখিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত ৩ অক্টোবর ক্রমিক নং-৬৯৭০, দলিল নং-৬৯৩৭, বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার নামে ৩ শতক জমি সাফ-কবলা দলিল মূলে খরিদ করা হয়। ক্রয়কৃত ভূমি চাঁদপুর পৌরসভার একজন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সরেজমিনে পরিমাপ করে দেখা যায় যে, আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে প্রায় ২৫ পয়েন্ট জমি কম রয়েছে এবং ক্রয়কৃত জমি সংলগ্ন ভূমি ও দোকান মালিক আহম্মদ হোসেন এর দখলে ২৫ পয়েন্ট জমি রয়েছে বলে সনাক্ত করা হয়। তারপর উক্ত দোকান মালিককে যৌথ সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করে উভয় পক্ষে জমি বুঝিয়া নেয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

দোকান মালিক আহম্মদ হোসেন তার ভাইদের সাথে আলোচনা করে জমি পরিমাপের তারিখ নির্ধারন করবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে জমির যৌথ পরিমাপ না করে তিনি টাল-বাহানা শুরু করেন ও অন্যায় অপকর্ম লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত কাজী ইব্রাহিম জুয়েলের প্ররোচনায় চাঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও সহ-সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবুর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

কাজী ইব্রাহিম জুয়েলের ফেইসবুক আইডি থেকে আহমদ হোসেনকে হুমকি দেওয়ার একটি খন্ডিত ভিডিও প্রকাশ করেন। যা সম্পূর্ন রুপে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। প্রকাশিত ভিডিও মিথ্যা অভিযোগ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও ফেরদৌস আলম বাবু এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করছি। অন্যথায় দলের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লা সেলিম বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে পৌরসভার লীজকৃত সম্পত্তিতে আমরা রয়েছি। সাবেক মেয়র আমাদেরকে বলেছেন জনস্বার্থে রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে। যেহেতু দলীয় অফিস ছোট তাই আমরা নিজস্ব জমি দেখে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন কমিটির প্রথম সভায় আমরা জায়গা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেই মোতাবেক বিভিন্ন জায়গা দেখি এবং একটি জায়গা নির্ধারণ করি। এই জায়গার জন্য আমরা দলীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করি। বাবুকে দলীয় ভবন নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দেই। আমরা তাকে সকল সহযোগিতা করবো। ঢাকার একটি মানববন্ধন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি মানিক ও বাবুর বিরুদ্ধে। হীন উদ্দেশ্যে এই মানবন্ধন করা হয়। এরপর এটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। আমরা সরকারি জমি দখল করতে পারতাম। নিজেদের টাকায় সাবকবলা দলিল করেছি। অফিস করার জন্য নেতাদের কাছ থেকে অনেক টাকা সংগ্রহ করেছি। আমরা কাউকে ভয় বা হুমকি দেই নাই। উচ্ছেদ করার কথাও বলিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারকৃত সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমির হোসেন দু:খ প্রকাশ করতে হবে এবং আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে হবে। এটি না করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এই ধরণের মিথ্যা প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং সত্য সংবাদ তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।

এ সময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডিএম শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, সদর থানা বিএনপি সভাপতি শাহজালাল মিশন, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী অ্যাড. শামছুল ইসলাম মন্টু ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম