মাদক কারবারের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা

শাহরাস্তি (চাঁদপুর): চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারির সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কথিত যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আ: হাই চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হয়।
গত ২৯ জুলাই ফোকাস মোহনায় ‘শাহরাস্তিতে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারির অর্থ লেনদেনের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক মিজানুর রহমান নামে এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভয়েস ক্লিপ এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদটি প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানও বলেছিলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা উচিত নয়। অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত: গত ২৮ জুলাই শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক হন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, চ্যাট ও ভয়েস ক্লিপ পাওয়া যায়, যেখানে অর্থ লেনদেনের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম