চাঁদপুরের
মেয়ে মেহেরিন আহমেদ রোজা। প্রাথমিক শিক্ষার শুরু থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন চাঁদপুরের সুনামধন্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মডার্ন শিশু একাডেমিতে’। সেই রোজা সর্বশেষ তার মেধার পুরস্কার হিসেবে অর্জন করলেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। তার এই অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
গত ২৪ জুন স্নাতকোত্তর পর্যাযে সারা দেশ থেকে ১৫টি বিভাগে ২১ জন শিক্ষার্থীকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ দেওয়া হয়। সেই ২১ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন ছিলেন মেহেরিন আহমেদ রোজা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নেন তিনি।
পুরষ্কার হিসেবে দেওয়া হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ স্বাক্ষরে একটি সনদপত্র এবং এককালীন তিন লাখ টাকার চেক। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার’ নির্বাচনের জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় তিন পর্যায়ের মূল্যায়নের নির্ধারিত মোট নম্বর ১০০। উক্ত ১০০ নম্বরের মধ্যে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর স্নাতক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের জন্য নির্ধারিত ৭০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসের জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক ১৫ নম্বরের মধ্যে প্রদত্ত নম্বর এবং মৌখিক সাক্ষাৎকারের জন্য ১৫ নম্বরের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত নম্বর যোগ করে প্রতিটি অধিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত (৬টি অধিক্ষেত্রে মেধাক্রমে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ১ম ও ২য় জন এবং অপর ১০ টি অধিক্ষেত্রে ১ম জন) শিক্ষার্থীকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার’ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়।
যেসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়, এর মধ্যে একাডেমিক ফলাফল বেশ বড় একটা নম্বর বহন করে। মেহেরিন আহমেদ রোজা ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৪ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। এর আগে ২০২২ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতক পর্যায়েও সিজিপিএ ৩.৯৪ পেয়ে তিনি প্রথম হন। স্নাতক পর্যায়ে প্রতিটি সেমিস্টারেই প্রথম স্থান অধিকার করে মেরিট স্কলারশিপ সহ তিনি ডিন’স লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন পেয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও তার জিপিএ ৫ ছিল।
তার কলেজ ছিল ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং স্কুল ছিল চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ।
মেহেরিন আহমেদ রোজা, পিতা- মোঃ ফারুক আহমেদ, মাতা-আইরীন পারভীন, ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে চাঁদপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ হবার পরপরই ‘জাতীয় ইন্টার্নশিপ নীতিমালা ২০২৩’ অনুযায়ি তিনি জনপ্রাশাসন মন্ত্রনালয়ের নির্বাচিত ১০ জন ইন্টার্ন এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি তারই বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের ৩১ তম পাবলিক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) তে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত রয়েছেন।
গবেষণায় বিপুল আগ্রহী মেহেরিন আহমেদ রোজা ‘জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতা-২০২৩’ এর চ্যাম্পিয়ন এবং তার রয়েছে দুইটি ভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত দুটি গবেষণা প্রবন্ধ। শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটিসে ও সমাজ সেবামূলক কাজে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ছিলেন তার ইউনিভার্সিটি ক্লাব ‘বিইউপি গ্লোবাল অ্যাফেয়ারস কাউন্সিল’ এর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। ছায়া জাতিসংঘ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পলিসি প্রতিযোগিতা, কেস কম্পিটিশন সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিসার্চ কনফারেন্স এ তিনি দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এছাড়া ২০১৯ সালে তার আঁকা ৪ টি ছবি প্রদর্শনের জন্যে নির্বাচিত হয় ‘স্ফুরণ ২.০’ নামক আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীতে। ২০২০ সালে ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনী নিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টরিতে ভয়েস ওভার দিয়ে তিনি বিপুল প্রশংসা অর্জন করেন।
ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশা ও গবেষণায় নিযুক্ত থাকতে আগ্রহী মেহেরিন আহমেদ রোজা এর পাশাপাশি হতে চান একজন লেখক। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন লেখনির মাধ্যমে স্থান ও সময় ভেদেও মানুষকে অনুপ্রাণিত করা যায়। তাই তিনি চান তার লেখনি ও প্রকাশনা যেন দেশ ও জাতির জীবনে উন্নয়নমূলক অবদান রাখতে পারে।
ফম/এমএমএ/



