
অনেক প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের পথ মাড়িয়ে নিজের অর্থায়নে গর্বের প্রতীক ‘পদ্মা সেতু’ নির্মাণ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আত্মমর্যাদার ক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের পরে বাংলাদেশের মানুষ এখন গর্ব করে আন্তর্জাতিকভাবে বুক ফুলিয়ে চলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন বাংলাদেশকে যথাযথ মূল্যায়ন করে। এই একটা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে অন্তত সেই মর্যাদা দিয়েছে।
আগে যারা কথায় কথায় আমাদের ওপর খবরদারি করত আর তাদের ভাবধারা এমন ছিল যে, ওরা ছাড়া বাংলাদেশ চলতেই পারবে না; সেই মানসিকতাটা বদলে গেছে। যত বাধাই আসুক অপ্রতিরোধ্য গতিতে আমাদের লাল সবুজের এই পতাকা সারা বিশ্বে গর্বের সঙ্গে এগিয়ে যাবে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, টোলের মাধমে যে টাকা আয় হয়েছে, সেটা টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার করব না। কারণ এই সেতু আমাদের গর্বের সেতু, টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার করার নয়। এই সেতু নির্মাণের পর এখন বাংলাদেশ শুনলেই আন্তর্জাতিকভাবে সবাই সমীহ করে। বাংলাদেশের জনগণ একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়নি। আমরা এখন আর্থ-সামজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ-স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর হোসেন। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পদ্মা সেতুর থিমসং প্রচার করা হয়। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রী ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বহুল আলোচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞ। রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড় হাজারের মতো অতিথি উপস্থিত ছিলেন বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মাওয়া প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ স্লোগান ও দু’হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এতটুকুও ভোলেননি। (সৌজন্যে: জনকন্ঠ)
ফম/এমএমএ/



