বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আমরা সেদিন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম : লুৎফুর রহমান ভূইয়া

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বঙ্গবন্ধু মঞ্চে স্মৃতিচারন 

চাঁদপুর:  মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজনে বীর মুক্তিযুদ্ধাদের যুদ্ধকালীন সময়ের ভিবিসিকাময় দিন গুলোর স্মৃতিগাঁথা ঘটনা প্রবাহ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধাদের স্মৃতিচারন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে মেলা মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার লুৎফুর রহমান ভূইয়া।
তিনি স্মৃতিচারণে বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ দেশ কে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান। ৫২ এর ভাষা আন্দলনের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। তখন পশ্চিম পাকিস্তানরা বলে আমাদের ভাষা হবে উদ্দো।বাঙ্গালী জাতি তখন ভাষার দাবীতে রাজ পথে আন্দোলন করে। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিল এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।এই আহ্বানে  আমরা যুদ্ধে ঝরে পরি। আমি তখন পাকিস্তানি বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। ৪৭ জন মুক্তিযুদ্ধাকে নিয়ে আমি ভারতে মেলাঘরে ট্রেনিং এ যাই। প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে টু সেক্টরে যেতে বলা হয়। আমাকে প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়। আমার প্লাটুনে লোক ছিল ৫৫ জন। ৮ ডিসেম্বর আমার শেষ যুদ্ধ করি চান্দ্রা বাজারে। বেলা ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত যুদ্ধকরি।এমনি ভাবে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করি।
অন্যান্য স্মৃতিচারকরা বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধাদের সব সময় সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্দ করেছি। আমরা যে উদেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তা হলো বঙ্গবন্ধু। তার ডাকে আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছি। ভারতে যেতে আমাদের তিন রাত কাটাতে হয়েছে। চাঁদপুর থেকে যখন রওনা হই তখন প্রথমে রাজার গাঁও যাই। কংশ নগর যাত্রা করি ৩৩ টি নৌকায়। কংশ নগর যখন পৌছাই তখন নৌকা দেখি ১৫ টি। বাকী গুলো কোথায় তা বলতে পারিনা। ট্রাকে করে আমাদের কে নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলা বাজারে গিয়ে নামি।কিছু সময় সেখানে থাকার পর নাস্তা খাওয়ার পর আমাদের কে রাত ১০ টায় হোল্ডিং ক্যাম্পে নিয়ে আসে হয়। রাতে আমাদের কে খাওয়া দেয়া হয় না।তারপর আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছি। ভারত যদি আমাদের কে সে দিন সহযোগিতা না করতো এত অল্প সময়ের মাঝে স্বাধীন হতো না। আমরা স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। তা রক্ষা করার দায়িত্ব এ দেশের জনগনের।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠানের সভাপতিত্বে ও স্মৃতিচারণ পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী মাস্টারের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মন্নান মিয়াজি ও মুক্তিযোদ্ধার  সন্তান প্রজম্ম ফারুক হোসেন ভূইয়া।
ফম/এমএমএ/