
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনে নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুড় বাড়িতে অটোরিক্সায় যাওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বনালংকার ও মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় চোরচক্র।
এ ঘটনায় প্রবাসী মো. নজরুল ইসলাম মিজির স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে অটো চালক জাহিদুর রহমানকে আসামী করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। যার নং-২, তারিখঃ ২/৬/২০২৬ ইং।
মামলার বাদী রাবেয়া বেগম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়নের পালতালুক গ্রামের প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
আর গ্রেপ্তারকৃত অটো চালক জাহিদুর রহমান ফরিদগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের চরবড়ালী গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রাবেয়া বেগম পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য নিজ বাড়ি থেকে গত ২৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পরিবারের লোকজনের সাথে পালতালুক গ্রামস্থ স্বামীর বাড়ির সামনে যায়। এসময় তাদের সাথে নীল রংয়ের ব্যানিটি ব্যাগ ও বিভিন্ন মালামাল ছিল।
সকল মালামাল নামালেও ভ্যানিটি ব্যাগটি অটোরিক্সা থেকে নামানো হয় নাই। ভ্যানিটি ব্যাগে নগদ ৩০,০০০ টাকা, ২২ ক্যারেটের দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও লকেট, মূল্য অনুমান ৩,৬০,০০০ টাকা, ০১টি HONOR X9-b 5G মডেলের এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, মূল্য অনুমান-৪৫,০০০ টাকা ও বাসার চাবির ছড়া ছিল। পরবর্তীতে স্বামীর বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অটোরিক্সা হইতে নেমে সাথে থাকা ৩টি ব্যাগ অটোরিক্সা হতে নামালে আসামী তড়িঘড়ি করে ব্যানিটি ব্যাগটি অটোরিক্সা হইতে নেওয়ার আগেই সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনায় ব্যবহ্নত অটোরিক্সা এবং চালককে সনাক্ত করা হয়। ফরিদগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে আসামী জাহিদুর কে চুরির ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে চুরির ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করে। পরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে আসামীর দেখানোমতে তাহার ঘরের আলমিরা থেকে ব্যানিটি ব্যাগ, নগদ ১৯,০০০টাকা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে মামলার বাদী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন প্রবাসী। তিনি প্রবাসে অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করেন। এ ঘটনার সাথে অটোচালক জাহিদুরের স্ত্রীও জড়িত রয়েছে। জাহিদুরের স্ত্রীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় চোর সনাক্ত করে চুরিকৃত মোবাইল, নগদ টাকা ও কিছু মালামালসহ চোর কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আসামীর স্ত্রীর কাছে স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে পরবর্তীতে তার স্ত্রী স্বর্ণালংকার না দিয়ে বললেন মামলা করলে মামলা করেন ভিতরে গেলে আমরা বিশ হাজার টাকা করে খরচ করে নিয়ে আসবো। আটককৃত অটোরিকশাচালক বলেন, আমার স্ত্রীর কাছে স্বর্ণালংকার সবকিছু দিয়েছি সে স্বর্ণালংকার রেখে দিয়েছে। আটকৃত অটো রিক্সাচালক বলেন যেহেতু স্বর্ণ অলংকার নেই আপনাকে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দিব কিন্তু হঠাৎ করে সে বলে যে না আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলেন।
তার স্ত্রী বলেন যে না আমার কাছে গলার চেন নাই আপনারা টাকা দিয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার স্বীকার করলে বাদী টাকা না দিয়ে তার শখের সেলফি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন কিন্তু তারা দেন না তবে এ ব্যাপারে আসামির স্ত্রী কে আটক করলে স্বর্ণের সেন্ট্রি পেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়। এই অটো চালক এবং তার স্ত্রী এরকম অহরহ ঘটনা করেছে বলে এলাকা সূত্রে জানা গেছে তার স্ত্রী এবং সে বড় চোর চক্রের সদস্য বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং শিব জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। আসামিরা জেল থেকে হুমকি দিচ্ছেন জেল থেকে বের হয়ে তাদের বাসা ঘরে যা কিছু আছে সব চুরি করে নিয়ে যাবে।
ফম/এমএমএ/



