কচুয়ায় ইট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ছবি: সংগ্রহীত।

কচুয়া (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের কচুয়া বিশ্বরোড এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কেনা ১০ হাজার ইট অন্যত্র সরবরাহ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইট নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মানিক হোসেন এ ঘটনায় কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারী মানিক হোসেন কচুয়া বিশ্বরোড এলাকার ‘মানিক ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করে আসছেন।

লিখিত অভিযোগে মানিক হোসেন উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই রাতে মোবাইল ফোনে দাউদকান্দির শাহিন হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১০ হাজার ইট কেনার চুক্তি হয়। প্রতি হাজার ইট ১৩ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১০ হাজার ইটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, ইটের মূল্য বাবদ নির্ধারিত টাকা শাহিন হোসেনকে পরিশোধ করেন তিনি।

তবে পরদিন ২৫ জুলাই সকালে অর্ডার করা ইট তার কাছে সরবরাহ না করে শাহিন হোসেন কচুয়ার ‘মুনতাহানিয়া ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মতিন হোসেনের মালিকানাধীন গদিতে ইটগুলো সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ করেন মানিক।

পরে শাহিন হোসেনকে না পেয়ে মতিন হোসেনের কাছে ইটের টাকা পরিশোধের কথা বলেন মানিক হোসেন। এ সময় টাকা দিতে নানা ধরনের টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ তার। একপর্যায়ে তার লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মানিক হোসেনের দাবি, তার ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইট অন্যত্র সরবরাহ করে দেওয়ার পরও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে তার ইট অথবা টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে মতিন হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চোরাই মালামাল বিক্রির অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের অভিযোগকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে মতিন হোসেন বলেন, দাউদকান্দির শাহিন নামে এক ব্যক্তি তার কাছে ১০ হাজার ইট বিক্রি করেছেন। তিনি প্রতি হাজার ইট ৮ হাজার টাকা দরে ইটগুলো কিনে রেখেছেন। তবে ইটগুলো কার, সে বিষয়ে তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, শাহিন হোসেন তার কাছে ইট বিক্রি করে পুরো টাকা নিয়ে চলে গেছেন।

এ ঘটনায় কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, ইটগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং টাকা লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফম/এমএমএ/

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম