জুনিয়র বিশ্বকাপ কাবাডির জন্য বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল একে একে। পেছনে জায়ান্ট স্ক্রিনে তাঁদের ছবি ভেসে উঠছিল। মঞ্চের সামনে বসে থাকা সেই খেলোয়াড়দের চোখেমুখে রোমাঞ্চ, প্রত্যয়। একজন বাদে প্রত্যেকের আন্তর্জাতিক অভিষেক হতে যাচ্ছে ইরানের উর্মিয়ায় হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টেই। সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের কারো কারো অভিভাবকও হাজির হয়েছেন। আজই তাঁরা দেশ ছাড়ছেন। যাওয়ার আগে সবার পক্ষ থেকেই শুভ কামনা থাকল।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমান বললেন, ‘তোমরা পদক জিতেই ফিরবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এখানেই তোমাদের সংবর্ধনা দেব।’ পল্টন কাবাডি স্টেডিয়ামের ম্যাটের ওপর দাঁড়িয়ে মাহবুবুর রহমান, তছলিম উদ্দিন, উজ্জাপন চাকমারাও তাঁকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে যুবাদের বিশ্বকাপ কাবাডি। ২০১৯ সালে হওয়া প্রথম আসরেও পদক জিতেছিল বাংলাদেশ।
সেমিফাইনালে ইরানের কাছে হেরে পায় ব্রোঞ্জ। থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ইরান পরে চ্যাম্পিয়নও হয় নিজের দেশের সে আসরে। এবারও ইরানেই খেলা। তবে এবার তাদের সঙ্গে ফেভারিট হিসেবে যোগ হচ্ছে ভারত। গতবার তারা খেলেনি। ফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়েছিল ইরান।
ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশের জন্য এবারও ফাইনালের পথটা তাই সহজ জয়। যুবাদের ভারতীয় কোচ শ্রীনিবাস রেড্ডি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠাটাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। এরপর ফাইনালের জন্য চেষ্টা করব।’
দলের যে একজন আগের বিশ্বকাপটাও খেলেছিলেন সেই উজ্জাপন চাকমা অবশ্য ভীষণ আত্মবিশ্বাসী গতবারের চেয়েও এবার ভালো পারফরম করার ব্যাপারে, এবার আমাদের প্রস্তুতি ক্যাম্পটা খুব ভালো হয়েছে। এখানে টানা দুই মাস আমরা অনুশীলন করেছি। ক্যাম্পে সব রকম সুযোগ-সুবিধা ছিল। কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে এই যে এমন একটা সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে, এটাই তো গতবার হয়নি। কেউ জানতই না আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। এবার আমরা আরো ভালো খেলব, এটা তাই জোর দিয়েই বলতে পারি।
ফম/এমএমএ/


