
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : ফেনীর জেলার সোনাগাজী উপজেলার আলোচিত নুসরাত জাহান রাফীর আত্মহত্যাকে হত্যায় রুপান্তর করে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে নিরপরাধীদের রিমান্ডে এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়কারী ও বিপুল পরিমান ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্রকে মূল মাষ্টার মাইন্ড সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমারকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ওই মামলার (তদন্ত কর্মকর্তা) বর্তমান ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলমকে বিচারের আওয়াতায় আনার দাবীতে মানববন্ধন করেছে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনরা।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানার মোড় এলাকায় এই মানববন্ধন চলাকালে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা যুবদলের সদস্যের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসে মানববন্ধনকারী ও উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যানার কেড়ে নেয় এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা লুট করে লাঞ্ছিত করে। এঘটনায় অভিযুক্ত যুবদলনেতা আব্দুল মতিনের সকল পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. রাকিবুল হাসান বাদী হয়ে ঘটনারদিন রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনকারীরা জানান, গত ২০১৯ সালে ফেনীর জেলার সোনাগাজী উপজেলায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ুয়া নুসরাত জাহান রাফি (১৯) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দেশ জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলে। উল্লেখিত ঘটনার মামলাটি তদন্ত করে তৎকালিন পিবিআই কর্মকর্তা বর্তমান ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ আলম। নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমারের নির্দেশে নিরপরাধীদের রিমান্ডে এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়কারী ও বিপুল পরিমান ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। সেই পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলম। তাই তার বিচারের দাবীতে থানার সামনে এসে মানববন্ধন করেছি। এসময় ওসির লেলিয়ে দেয়া যুবদল নেতা আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যানার, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে উপস্থিতিদের লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
মামলার বাদী বাংলা এডিশনের সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, মানববন্ধন চলাকালে নিউজ সংগ্রহ করার সময় যুবদলনেতা আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং আমাদের লাঞ্ছিত করে। আমরা থানায় মামলা দায়ের করেছি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
এদিকে যুবদলনেতা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদ নুরুল ইসলাম সোহেলের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা যুবদলেরসহ তার সকলপদ স্থগিত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলাম। আমি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। বিচার করেছে আদালত। এখন তারা ন্যায় বিচার পায়নি তাই মানববন্ধন করেছে। এসময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
ফম/এমএমএ/



