নারায়নগঞ্জের চোর অপু চাঁদপুরে আটকের পর কারাগারে

চাঁদপুর: চাঁদপুরে টোকাই বেশে ছদ্মনাম ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪টি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংঘর্টিত করেছে নারায়নগঞ্জের চাষারার দুর্ধর্ষ চোর মো: অপু মিয়া (৩০)। পরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ চোর অপুকে সোমবার (৫ডিসেম্বর) বিকেলে আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (৪ডিসেম্বর) দিনের বেলায় শহরের প্রফেসর পাড়া মোল্লা বাড়ি রোডেস্থ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মৃত মোশারফ হোসেনের বাড়িতে জানালার গ্রীল কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা সংঘটিত করে চোর মো: অপু মিয়া(৩৭)সহ চোর চক্র।

এ সময় তারা ঐবাড়ি থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়, নারায়নগঞ্জের চাষারার দুর্ধর্ষ চোর অপু ও তারসাথে থাকা চাঁদপুরের সংর্ঘবদ্ব চোরচক্র। পরে ঐ এলাকার কয়েকটি সিসি টিভির ফুটেজ দেখে দেখে সনাক্ত করা হয় চোর অপুকে। তাকে পুরো শহরে তল্লাশি শেষে শহরের বকুলতলা এলাকার ভাংঙ্গারি দোকানদার সাব্বির ছৈয়ালের দোকানের কাছ থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে শহরবাসী।

চাঁদপুর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নারায়ন গঞ্জের চাষারার দুর্ধর্ষ চোর মো: অপু মিয়া চাঁদপুরের একটি চোর চক্রের সহায়তায় বিগত প্রায় এক মাসের অধিক সময়ের মধ্যে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ৪টি দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটিয়ে চুরি সংঘটিত করে। তাকে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ হন্নে হয়ে আটকের চেস্টা অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল।

গত ২৬ নভেম্বর শহরের নাজির পাড়া এলাকার সিসি টিভির ফুটেজ দেখে জানা যায়, দুর্ধর্ষ চোর মো: অপু নাজির পাড়ার জনৈক টিপু সুলতানের বাসায় দিনে-দুপুরে বাসার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে বাসায় থাকা আলমারিতে রাখা স্বর্ণালংকার,নগদ টাকা, বাসার ভিতরে থাকা দামী মালামাল ও বাসার গোশল খানায় প্রবেশ করে দামী পানির কলসহ বিভিন্ন মূল্যমান সরমঞ্জাম খুলে বস্তাভর্তি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। সে ঘটনায় বাড়ির মালিক টিপু সুলতান চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

সে ঘটনার আলোকে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদসহ থানার পুলিশ অফিসাররা চোর অপুকে আটক করতে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে দুর্ধর্ষ চোর অপু চাঁদপুরের চোর চক্রের সহায়তায় পূর্নরায় গত শনিবার(৩ডিসেম্বর) দিনে-দুপুরে শহরের প্রফেসর পাড়া মোল্লা বাড়ি রোডে জানালার গ্রিল কেটে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

আটক হওয়া চোর অপু জানান, সে নারায়ন গঞ্জের চাষারা থেকে চাঁদপুরে আসে বকুলতলার ভাংঙ্গারি সাব্বির ছৈয়ালের মাধ্যমে। সে বিভিন্ন স্থান থেকে ভাংঙ্গারি টুকিয়ে বকুলতলার সাব্বির ছৈয়ালের কাছে ও মিশন রোডের গেইট ঘরের সাথের ভাংঙ্গারি দোকানদারের কাছে বিক্রি করে। তার ভাষায় সাব্বির ভাই আমার চাঁদপুরের মুরুব্বি। আমি তার মাধ্যমে পরিচয় হওয়া বিভিন্ন স্থানে থাকি। এখন থাকি তালতলা মাদ্রাসার কাছে।

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, শহরের প্রফেসর পড়া মোল্লা বাড়ি রোডের মসজিদ সংলগ্নস্থানের বাসিন্দা সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মৃত মোশারফ হোসেনের বাড়িতে (৩ ডিসেম্বর) শনিবার বেলা অনুমান ১১টার দিকে চোরচক্র জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসী অপুকে বকুলতলা থেকে ধরে নিয়ে একটি বাসায় আটক করে রাখার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাতে অপু (৩৭) কে প্রফেসর পড়া মোল্লা বাড়ি হতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী মো. মাসুদ ভুইয়া জানান, নাসির উদ্দিন শুভর বাবা মা দু’জনই মারা গেছেন। বাড়িতে শুভ এবং তার বোন রুবী বসবাস করে। ঘটনার আগের দিন রুবী বড় বোনের বাড়িতে ছিলো। সকাল ৯টায় শুভ ঘরের দরজা বন্ধ করে শহরের বিপনীবাগস্থ তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান শুভ এন্টার প্রাইজে ছিল। বেলা পৌনে ১১টায় বাসায় ফিরে দেখে বাড়ির মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই সময় পুকুর ঘাট যাবার পথে দরজা না খোলার বিষয়টি আমার নজরে আসে।
পরে আমরা পাশের দোকান থেকে লোহার রড এনে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি ঘরের আসবাবপত্র ছড়ানো ছিটানো। আলমারি, ড্রয়ারগুলা ভাঙা আর গহনার বক্সগুলো খালি পড়ে আছে।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন শুভ জানান, সকাল ৯টায় আমি বাসা থেকে বের হবার পর কোন এক সময়ে চোরচক্র ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ও ভেঙে প্রবেশ করে। স্টিলের আলমারি ও সুকেজের ড্রায়ার ভেঙে ৩০ ভরি স্বর্ণ,নগদ ৩লাখ টাকা নিয়ে গেছে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে অবগত করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। শুভ আরো বলেন, আমি প্রান কোম্পানীর পণ্য পরিবেশকের ব্যবসা করি। তারা আমার মা এবং বোনদের স্বর্ণসহ আমার ব্যবসার টাকাগুলো নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার না হলে আমাকে পথে বসতে হবে। আমি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং চোরচক্রকে আটক করে দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির দাবীতে পুলিশ প্রশানের দৃষ্টি কামনা করছি।

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ আসে গত ২২ তারিখ থেকে সে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪টি চুরির ঘটনা সংঘটিত করে। সে আলোকে তাকে বিভিন্ন স্থানে খুজে বেড়ানো হয়, তাকে আটক করার জন্য। পরে তাকে আটক করতে আমরা সক্ষম হই। সে আলোকে তার বিরুদ্বে চুরি সংক্রান্ত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত থেকে রিমান্ড মঞ্জুর হলে আশা করা যাচ্ছে, ৪টি চুরির ঘটনা উদঘাটনে আমরা সক্ষম হবো। জনগনের জানমাল নিরাপদের জন্য আমাদের চাঁদপুর মডেল থানা এ ধরনের যেকোন অভিযান অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম