চার শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দিল চাঁদপুর জেলা পরিষদ

চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধকালীন চাঁদপুর জেলার কমান্ডার, খেতাবপ্রাপ্ত ৪ শ’ ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকালীন চাঁদপুর জেলার কমান্ডার ও খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সম্মানি প্রদান করা হয়।

শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিরা।  এরপর আমন্ত্রিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান এবং উদ্বোধকের বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানে অনেক কাজ করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভাবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বীর নিবাস করা হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস করা হবে।

ডিসি বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। আমি এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। স্বাধীনতা থেকে স্বাধীকার আন্দোলনে যার ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি। আমরা এ প্রজন্মের অনেককেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানি না। আজকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের যে মিলনমেলা করা হয়েছে তা প্রশংসার দাবী রাখে। এমন আয়োজনে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের দেখা এবং তাদের মুখ থেকে যুদ্ধের স্মৃতিকথা শুনতর পারি।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সর্বোচ্চ সম্মান করি। আপনাদের যে কোন প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসবেন। আমরা আপনাদের সাথে যে কোন পরিস্তিতিতে কথা বলতে প্রস্তুত আছি। আমার বাবা এবং নানা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ায় আমাদের গ্রামে যে একটি বাড়িতে আগুণ দেয়া হয়েছে, সেটি আমাদের বাড়ি। আমার বাবাও এখন আপনাদের মত বয়সের ভানে নূয্য। আগামী বছরে হয়তো আমরা অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে ফেলবো। বাঙালী জাতির বীর সন্তানদের চোখে দেখার যে সৌভাগ্য আমরা পেয়েছি, তা যখন তারা থাকবেন না, তখন বুঝতে পারবো।

ডিসি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এটি আমার জন্য বিরল আনন্দের। আজকে আমি নিজেকে অনেক গর্ববোধ করছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমি যেন আমার দায়িত্ব পালন করতে পারি।

স্বাগত বক্তব্য দেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটওয়ারী।

জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন-পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মহসীন পাঠান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার মো. সহিদউল্লাহ, কচুয়া উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার জাবেদ মিয়া, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম চিশতী।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন-জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাকির প্রধানীয়া, সদস্য বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, খোরশেদ আলম ও আল-আমিন ফরাজী।

সবশেষে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে চাদর, কম্বল ও নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম