চাঁদপুরের কচুয়ায় সুন্দরী খালের উপর ব্রীজের নির্মান কাজ বন্ধ থাকায়, ঠিকাদারক দায়ী করলেন এলকাবাসী। এতে করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ তিন গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঠিকাদারের গাফলতিতে সুন্দরী খালের উপর গার্ডার ব্রিজের নির্মান কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না করে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা মহামারী ও নানাহ কারণে দীর্ঘদিন ব্রিজটির কাজ বন্ধ থাকলেও, শীঘ্রই বাকি কাজ সম্পন্ন করার কথা জানান এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের কাদিরখিল, প্রসন্নকাপ গ্রামের সুন্দরী খালের উপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ২০১৮ সালে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। জিসিপি (বৃহত্তর কুমিল্লা প্রকল্প-৩) এর আওতায় ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ ব্যয় ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছিল। দরপত্র অনুযায়ী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া কাজটি ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ না করায় ঝুলে আছে ব্রিজের ৪০শতাংশ কাজ। প্রসন্নকাপ, কাদিরখীল ও নাওছোঁয়া গ্রামের মানুষজন কচুয়া উপজেলায় যাতায়াতের এটি একমাত্র মাধ্যম। এই পথের খালের উপর ব্রীজটি নির্মান না হওয়ায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী মহিলাদের বেশী ভোগান্তিতে পরতে হয়।
শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার ও তানজির হোসেন বলেন, আমরা বাড়ী থেকে বিদ্যালয়ে টিফিনের যে টাকা আনি তা থেকে খেয়া পারাপারে দৈনিক ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এতে আমরা টিফিন করতে না পেরে প্রায়শ: ক্ষুধার্ত থেকে কষ্ট করতে হয়। আমাদের সাথে অনেক শিক্ষার্থী টাকা-পয়সা ও খেয়া নৌকার বিড়ম্বনায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান মিয়ার অভিযোগ, ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের অপরাধ কি, টাকা দিয়ে কেন নৌকা পারাপার হতে হচ্ছে। অনেক সময় রাতে খেয়া থাকে না, টাকা থাকে না, অসুস্থ রোগী নিয়ে তখন ভোগান্তির শেষ নেই । সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে ব্রীজের বাকী কাজটুকু দ্রুত শেষ করে আমাদের চলাচলের পথ অবমুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রসন্নকাপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিবাস চন্দ্র গোপ জানান, উত্তর এলাকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলে আসতো। বর্তমানে নৌকা ভাড়া দিয়ে ও টিফিন করতে না পেরে এবং নদী পারাপারে ঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এস্কুলে পাঠাতে চায় না। ফলে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী কমে গেছে। তাই সুন্দরী খালে ব্রীজটির নির্মান কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
এম. এস. শাকিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার আহসান হাবিব অরুণ বলেন, লোকবল সংকট, কাজে লোকসান ও প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে শীঘ্রই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
চাঁদপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কচুয়ার সুন্দরী খালের উপর ব্রীজের কাজটি চলমান আছে। তবে করোনা ও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় নির্মান কাজ বিলম্বিত হয়েছিল। বর্তমানে কাজের অনুকুল পরিবেশ তৈরীর পাশাপাশি ঠিকাদারকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। আশা করি অতি শীঘ্রই ব্রীজটির নির্মান কাজ শেষ করে, জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা সভব হবে।
ফম/এমএমএ/



