কচুয়ার মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়স্থান অর্জন করেছে মনপুরা সপ্রাবি

কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে কাদলা রহমাতাল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং গ্রামীণ এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরীক্ষায় কাদলা ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং বেসরকারি কেজি স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
পরীক্ষার গত সোমবার ফল প্রকাশে ৫৭ নং মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। ওই বিদ্যালয় থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্ৰহন করেন। এর মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল, সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪জনসহ ১০ জন বৃত্তি পেয়েছেন।
৫৭নং মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের জন্য এটি আরও একাধিকবার লেখাপড়ার মান নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
বিদ্যালয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন,এই অর্জন আমাদের শিক্ষক মণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায় এবং সম্মানিত অভিভাবকদের সহযোগিতার ফসল। আমরা ক্লাসের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্নের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছিলাম। এই ধারা আগামীতেও বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের চমৎকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আন্তরিক গাইডলাইনের কারণেই আজ তাদের সন্তানরা কাদলা রহমাতাল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশনের মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় ইউনিয়নের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে গৌরব উজ্জ্বল সাফল্য বয়ে আনতে পেরেছে। শিক্ষক মন্ডলী ও পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
উল্লেখ্য যে, কাদলা রহমাতাল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ‘স্বপ্নবাজ’ ও ‘বরইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের সৌজন্যে দিনব্যাপী জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘মেধা বিকাশ বৃত্তি পরীক্ষা’ ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উৎসবমুখর পরিবেশের ইউনিয়নের মোট ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৬৬৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি ২৭৮ জন, চতুর্থ শ্রেণি ২১২ জন, তৃতীয় শ্রেণি ১৭৯ জন। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন আয়োজক প্রধান ব্যবস্থাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এবং কাদলা খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসার প্রভাষক মো. জান্নাতুল আলম আলমগীর।
পরীক্ষার আয়োজক প্রধান ব্যবস্থাপক মো. জান্নাতুল আলম আলমগীর জানান, তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং ঝরে পড়া রোধে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। আগামীতেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এমন গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
তিনি আরো বলেন, গুলবাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম স্থান, ৫৭ নং মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলীসহ অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
ফম/এমএমএ/

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম