কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়নের রঘুনাপুর বাজারে সরকারি জায়গা ও হাটের শেড দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইমান হোসেন।
অভিযুক্তরা হলেন, কাদলা ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন বগির মায়ের বাড়ির মৃত নুরুল ইসলাম ভান্ডারীর ছেলে মো. জহির (৩৫) ও তার বড় ভাই জালাল (৪৫)। এর মধ্যে অভিযুক্ত জহির বিগত সরকারের আমলে ৮নং কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে সময়ও বিভিন্ন অপকর্ম চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রঘুনাপুর বাজারের খালের পূর্ব পাড়ে জোরপূর্বক সরকারি জায়গা ও বাজারের শেডের অংশ দখল করে পাকা ও টিনের ঘর নির্মাণ করেন অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে বাদী ইমান হোসেন ও স্বাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জায়গায় ঘর তোলার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাদী বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। স্বাক্ষীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাদীকে সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দফায় দফায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কারো তোয়াক্কা করেননি। তারা সুযোগ বুঝে পুনরায় সরকারি জায়গা দখল ও বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি হাটের সবজি শেডের ভেতরে কাঠ ও টিন দিয়ে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জহির ও তার ভাই জালাল। হাটের জায়গা এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত মো. জহির হোসেন দাবি করেন, “রেকর্ড ও খতিয়ান অনুযায়ী এই জায়গার মালিক আমি। আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। তবে জায়গাটা যে ফেরি (ঘেরাও) করা হয়নি, তা আমি স্বীকার করছি। আমি অতিদ্রুত উচ্ছেদের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করব।”
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় শেডের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/


