কক্ষ সংকটে শাহরাস্তির নিজ মেহের সপ্রাবি, শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত

চাঁদপুর : একতলা ভবনের কক্ষ মাত্র দুটি। ওই ভবনের সিঁড়ির নিচে বসে দাপ্তরিক কাজ সারেন শিক্ষকরা। একই কক্ষে পাঠদান করেন একাধিক শ্রেণির। আর এই চিত্র হচ্ছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা সদরের দক্ষিণ নিজ মেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। একটি কক্ষে একেই সাথে দুই শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন দুজন শিক্ষিকা।

শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর ভবন থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন ৬ জন শিক্ষিকা। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণি কক্ষ। নেই কোন অফিস রুম। বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিঁড়ির নিচে অফিস করে যাচ্ছেন।

সকাল ৯ টা থেকে ১১ পর্যন্ত শিশু শ্রেণী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান চলে। ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। এতে করে একটি কক্ষে পঞ্চম শ্রেণি ও আরেকটি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পাঠদান একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন দুজন শিক্ষিকা। নিজেদের কাছে বিষয়টি দৃষ্টিকটু মনে হলেও বাধ্য হয়েই এই কাজটি করে যাচ্ছেন বলে তাঁরা জানান।

সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল মাওয়া বলেন, একটি কক্ষে দুটি শ্রেণির পাঠদান করতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের অফিস নেই, নামাজের স্থান নেই।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন ভেঙে ২০১৭ সালে দুই রুমের নতুন ভবন করা হয়। সে সময় শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার জন্য উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য আশ্বস্ত করা হয়। ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। এতে করে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার বলেন, ২০১৭ সালে তিনি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তারপর থেকেই প্রতিবছর ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য লিখিত আবেদন করে যাচ্ছেন কিন্তু কোন প্রকার সহযোগিতা পাননি।

শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আক্তার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন প্রয়োজন। আমরা কয়েকবার তালিকা ভুক্ত করে ভবনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। এমনকি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকা পাঠানো হয়েছে কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।

বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

ফম/এমএমএ/ফয়েজ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম