চাঁদপুর: ‘জেন্ডার সমতাই শক্তি: নারী ও কন্যাশিশুর মুক্ত উচ্চারণে হোক পৃথিবীর অবধারিত সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে চাঁদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান।
তিনি বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। অনেক জেলাতে নারীর সংখ্যাই বেশি তারমধ্যে চাঁদপুর জেলাও রয়েছে। আমাদের বিশাল জনসংখ্যাকে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। একজন নারী বাসায় যখন কাজ করে তখন আমরা তাদেরকে স্বীকৃতি দেই না। জনসংখ্যার বিষয়ে আপনারা বাসায় বাসায় গিয়ে যখন বুঝাবেন তখন স্বাভাবিক কিছু বিষয় নিয়ে একটু সচেতন করার চেষ্টা করবেন। জনসংখ্যার ব্যাপারে এখন বেশিরভাগ মানুষ সচেতন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন উন্নত সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। আর তা হতে আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে। আমাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেখার কাজ আছে।
ডিসি বলেন, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেরা অনেকাংশেই দায়ী। একটা মেয়ে যখন সুন্দর হয় তখন রাস্তায় অনেক সময় ইভটিজিং এর স্বীকার হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে বাল্যবিবাহ দিতে বাধ্য হয়। জেন্ডার বলতে একজনকে বলে না। সেখানে ছেলে মেয়ে দু’জনকেই বুঝায়। অনেকসময় নার্সিং পেশায় পড়তে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠে না। কিন্তু নার্সিং পেশায় কেরিয়ার গঠনের অনেক সুযোগ রয়েছে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. মো. ইলিয়াছের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা পরববার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াস, প্রেসক্লাব সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ প্রমূখ।
সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তানভীরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ গুপ্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী, কল্যাণপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের স্যাকমো রহিমা খানম, ফরাজীকান্দি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোর্শেদা আক্তার, মতলব দক্ষিণ উপাদী ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সুমন চন্দ্র সরকার, মতলব দক্ষিণ উপাদী উত্তর ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারি আলেমা সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারি পরিচালক এ কে এম আমিনুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে জেলা পর্যায়ে শেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানদের পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। জেলা পর্যায়ে শেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ, ফরিদগঞ্জ গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়ন পরিষদ, ফরিদগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কল্যাণপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের স্যাকমো রহিমা খানম, ফরাজীকান্দি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোর্শেদা আক্তার, মতলব দক্ষিণ উপাদী ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সুমন চন্দ্র সরকার, মতলব দক্ষিণ উপাদী উত্তর ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারি আলেমা সুলতানা ও সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক চাঁদপুর।
ফম/এস.পলাশ/এমএমএ/


