দুস্কৃতিকারীদের পক্ষে আমি কোন প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করতে চাইনা

হাজীগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক।

তিনি স্মরণকালের বৃহত্তম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে যোগ দেন। এর আগে উপজেলা বিএনিপর আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এমএ রহিম পাটওয়ারীর উপস্থাপনায় ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কি এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধ পরায়ন হইনি। ২৪ আগস্টের পর এর প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন। কিন্তু যারা আমার নেতাকর্মীদের উপর বিনাকারণে দখল, জুলুম, নির্যাতন, হামলা করে, মামলা দিয়ে জেলা পুঁতে হয়রানি এবং শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করেও ক্ষমাপ্রার্থী হয় নাই বরং তাদের আস্ফালন আরো বেড়েছে। যা আজ জনসম্মুখে প্রকাশিত। সেজন্য ক্ষমার পাশাপাশি অন্যায়কারীর মাঝে-মধ্যে বিচার করতে হয়।

তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা আমার নেতাকর্মীর উপর জুলুম করেছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তাদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। নেতাকর্মীরা যে যেখানে ওইসব জুলুমবাজ ও নির্যাতকারীদের পাবেন, তাদেরকে সেখানেই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিন। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না এবং অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেনো, কোন নিরিহ সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।

ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি বলেন, অন্যায়ের সীমা আছে। আমরা আপনাদের অনেক সুযোগ দিয়েছি। যেহেতু আপনারা নিজেদের শোধরাচ্ছেন না, সেজন্য আইনের আওতায় এনে আপনাদের বিচার করতে চাই। আমরাও দেখতে চাই, আপনাদের আপা (শেখ হাসিনা) যদি ডিসেম্বরে না আসে, তাহলে আপনি কোথাই থাকেন?

তিনি বলেন, আপনারা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আমার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আপনারা কোথাই যাবেন ? কিন্তু বলে দিতে চাই, আমরা কোথাও যাবো না। জুলুম নির্যাতন সহ্য করে গত ১৭ বছর এদেশে ছিলাম, আগামিতেও থাকবো। আমরা-তো ১৭ বছর সহ্য করেছি, কিন্তু আপনাদের একবছরও সহ্য হয়নি।

তিনি বলেন, ৭৫ সালের পরে ২২ বছর পর ক্ষমতায় আসছেন, এবার ৪৪ বছর নিশ্চিত। কারণ, ২৩৪ বিলিয়ন ডাকাতি করেছেন। এই ডাকাতদের বাংলাদেশে ডুকতে দেওয়া হবেনা। কেউ ফেসবুক ও ইউটিউবের প্রলোভনে পড়ে রাস্তায় নেমে যাবেনা না। এতে যদি আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আমি আপনাদের রক্ষা করতে পারবোনা।

ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি বলেন, লুটেরা, স্বৈরাচার ও দুস্কৃতিকারীদের পক্ষে আমি কোন প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করতে চাইনা। গত ১৭ বছর যারা নির্যাতন করেছে, আপনারা (দলীয় নেতাকর্মী) তাদের নাম-ঠিকানা লিস্ট (তালিকা) করে থানায় দিবেন। কারণ, অন্যায়কারীর বিচার না হলে তাদের আস্ফালন বেড়ে যায়। তারা সীমা লঙ্গন করেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ’সহ সারাবিশে^ আন্দোলন চলছে। আমাদের নেতা (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) শান্তিপূর্ণভাবে দেশ চালাতে চায়। সরকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে ভুর্তকি দিয়ে তেল-গ্যাস ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে যাচ্ছে। আপনারা ধৈয্য সহকারে মোকাবেলা করুন। আপা (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসবেনা। আশাকরি আগামি ডিসেম্বর ও অর্থবছর থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কাঙ্খিত উন্নয়ন’সহ সবকিছুই হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলে জামায়াতকে দেখতে পারেনা। কিন্তু হাজীগঞ্জে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে-মিশে ব্যবসা করে। আপনারা (দলীয় নেতাকর্মী) আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে এদের একটা লিষ্ট করে আমাকে দিবেন। আমি প্রমাণ হিসেবে তাদেরকে দেখাবো যে, তারা মিলে মিশে ব্যবসা করে।

এসময় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল খায়ের মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার হোসেন ভুলু মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম ভুট্টু, নুরুন্নবী সম্রাট, এমরান হোসেন, মিজানুর রহমান সেলিম, বিল্লাল পাটওয়ারী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল হোসাইন বেলাল, সদস্য সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মিঠুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম খাঁন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মারুফ খান রাসেল, সদস্য সচিব নাজমুল হাসান রাজন, পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রাশেদ আলম হীরা, সদস্য সচিব সোহেল রানা সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম ফয়সাল হোসাইন, সদস্য সচিব জুয়েল রানা তালুকদার, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক দ্বীন ইসলাম টগর, সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন মিয়াজীসহ পৌর যুবদল, উপজেলা ও পৌর মৎস্যজীবি দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম