রামচন্দ্রপুর ভূঁঞা একাডেমিতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা

এসএসসিতে শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ শিক্ষার্থী

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): শহরের নামী-দামি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে মফস্বলের একটি বিদ্যালয় বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বলছিলাম চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ভূঁঞা একাডেমির কথা।

২০২৬ সালের এসএসসি ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি। এবার প্রতিষ্ঠানটির ৮ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নে কোনো উচ্চবিদ্যালয় না থাকায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে ১৯৮২ সালে রামচন্দ্রপুর ভূঁঞা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফলেও ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, এ পেয়েছে ২৪ জন, এ-মাইনাস ১১ জন, বি ৩ জন এবং সি পেয়েছে ৮ জন।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৭ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে। এখানেও পাসের হার শতভাগ। ভোকেশনাল শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন এবং এ গ্রেড পেয়েছে ৩২ জন। অর্থাৎ সাধারণ ও কারিগরি—দুই শাখাতেই শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগও রয়েছে। সেলাই ও ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের পথও তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে পড়ালেখার খোঁজখবর নিই। প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষকরা শিফট করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং শিক্ষার মানও উন্নত হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, ফলাফলেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি, বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া এবং আন্তরিক পাঠদানের কারণেই বিদ্যালয়ের ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।

মফস্বলের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ধারাবাহিক সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, পুরো বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত তদারকির এই উদ্যোগই রামচন্দ্রপুর ভূঁঞা একাডেমির সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফম/এমএমএ/

মহিউদ্দিন আল আজাদ | ফোকাস মোহনা.কম