কচুয়া (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের কচুয়া পৌর বাজারের প্রাণবিন্দু ও শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী সেই বিশাল বটগাছটি আজ আর নেই।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে এক জীবন্ত ইতিহাস। গাছটি উপড়ে পড়ার সাথে সাথে যেন শেষ হয়ে গেল একটি যুগের গল্প।
দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে কচুয়া পৌর ধান বাজারে অবস্থিত এই বটগাছটি পার্শ্ববর্তী কাপড় পট্টির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি কাপড়ের দোকান দুমড়েমুচড়ে গেছে। দোকান মালিকরা আকস্মিক এই বিপর্যয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে গাছটি পড়ার সময় নিচে লোকজন না থাকায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
কচুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এই বটবৃক্ষটি কেবল একটি গাছ ছিল না, এটি ছিল বাজারের ব্যবসায়ীদের আশ্রয়স্থল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এর শীতল ছায়ায় শৈশব কাটিয়েছে, ক্লান্তি দূর করেছে পথিক। এর প্রতিটি শিকড় জড়িয়ে ছিল কচুয়ার মাটির গভীর ইতিহাসে। দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে রোদ-বৃষ্টি ও নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এই মহীরুহ।
ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় পট্টির ব্যবসায়ীরা ফখরুল ইসলাম বলেন, বটগাছটি দোকানের ওপর পড়ায় মালামাল ও ঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান বাজারে এমন আর্থিক ধাক্কা সামলানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন দিশেহারা হয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর অপেক্ষায় আছেন। এ বিশাল বৃক্ষের পতন শুধু একটি গাছের মৃত্যু নয়, এটি কচুয়া বাজারের সম্মিলিত স্মৃতির এক ভগ্নস্তূপ।
স্থানীয় প্রবীণরা আক্ষেপ করে বলেন, এই বটগাছটিকে কেন্দ্র করেই আমাদের বাজারের অনেক ঐতিহ্যের শুরু হয়েছিল। আজ সেটি লুটিয়ে পড়ায় মনে হচ্ছে বাজারের একটা অংশ প্রাণহীন হয়ে গেল।
কেন এই ক্ষতি এত গভীর আর এর প্রভাব কতদূর—তা নিয়ে এখন পুরো কচুয়াজুড়ে চলছে শোকাতুর আলোচনা। বহু যুগ ধরে কচুয়া বাজারের প্রতীক হয়ে থাকা এই বটবৃক্ষটি এখন কেবলই ইতিহাস।
ফম/এমএমএ/


