চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তরে এখলাছপুর ও বেলতলী আশ্রয় প্রকল্পে দীর্ঘদিনের অবহেলায় এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে গড়ে ওঠা এসব প্রকল্পে বসবাসকারী প্রায় দুই শতাধিক পরিবার আজও বঞ্চিত ন্যূনতম বসবাসযোগ্য পরিবেশ থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় ১৯৯৮-৯৯ সালে ৮০টি এবং ২০০৫ সালে আরও ৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। অপরদিকে, সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী মৌজায় ২০০৭ সালে ৬০টি পরিবারের জন্য গড়ে তোলা হয় আরেকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প।
কিন্তু নির্মাণের পর থেকে নিয়মিত সংস্কারের অভাবে দুই প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই এখন জরাজীর্ণ। কোথাও ফুটো টিনের ছাউনি, কোথাও ভাঙা দরজা-জানালা, আবার কোথাও নষ্ট বেড়া। সবমিলিয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আবাসনগুলো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাসিন্দা পলিথিন ও পুরনো কাপড় দিয়ে কোনোরকমে ছাউনি ঢেকে দিন পার করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শিশু-বৃদ্ধসহ পরিবারের সবাইকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এখলাছপুর প্রকল্পের বাসিন্দা রামপ্রশাদ, সোলেমান বলেন, জায়গা-জমি না থাকায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু ঘরের অবস্থা এত খারাপ যে থাকা খুবই কষ্টকর। গৃহহীনদের জন্য নতুন ঘর দেওয়া হচ্ছে, অথচ ২০ বছর আগে আমাদের যে ঘর দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো খোঁজখবর কেউ নেয়নি।
হারুন বাদশা ও কোহিনূর আক্তার বলেন, অনেক ঘরেই থাকার মতো অবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে অনেকে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, বিছানা ভিজে যায়। ঘরে শুলে আকাশ দেখা যায়। এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে? বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা চান বানু, পুষ্প রানী, রেজিয়া বেগম, চিহ্ন রানী ও রুনা বেগমদের কণ্ঠে উঠে আসে এমনই হৃদয়বিদারক বাস্তবতা কথা।
বেলতলী প্রকল্পের বাসিন্দা রবিউল্ল্যা, হাকিম আলি, রফিক, শাহাজাহান, মিজান ও হাসন জানান, ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। পলিথিন দিয়েও রক্ষা হয় না। প্রতি বছরই সাংবাদিকরা খবর নেন এবং প্রকাশ ও হয়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা এখনো অবহেলিত।
বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জহির মোল্লা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাঙাচোরা ঘর। অনেক ইউনিটে থাকার মতো অবস্থা নেই। তাই অনেক পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
দুই প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিউবওয়েল ও টয়লেট নষ্ট হলে নিজেদের খরচেই তা মেরামত করতে হয়। পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সহায়তা থেকেও অনেকেই বঞ্চিত।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পগুলো অবহেলায় পড়ে আছে। নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর নির্মাণ হলেও পুরনো প্রকল্পগুলোর সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা সতর্ক করেন।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি এ বিষয়ে বলেন, বেলতলী প্রকল্পটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় পুনরায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্পও বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।
ফম/এমএমএ/



