
চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলায় হাম (মিজেলস) শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকাস্থ আরটিপিসিআর ল্যাব থেকে রিপোর্ট আসার আগে রোগীদের উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
স্থানীয়ভাবে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলে রিপোর্ট পেতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ধীরগতি করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাহমিনা রহমান জেসমিন জানান, গত তিন মাসে চাঁদপুর থেকে হামের নমুনা শনাক্তকরণের জন্য ঢাকার আরটিপিসিআর ল্যাবে ৭০টি নমুনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, নমুনা পাঠানোর পর রিপোর্ট পেতে গড়ে ৪-৫ দিন সময় লাগে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ আসিবুল আহসান চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। জেলা পর্যায়ে হামের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় উপসর্গের ভিত্তিতেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, ভর্তি শিশুদের মধ্যে চোখ লাল হওয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে দ্রুততম সময়ে রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
চিকিৎসকরা মনে করছেন, চাঁদপুরেই যদি হামের পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা যায়, তবে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
ফম/এমএমএ/



