২৬ ডিসেম্বর নৌপথে কুমিল্লা বারের আইনজীবীদের সুন্দরবন আনন্দভ্রমণ

ফাইল ছবি।

কুমিল্লা:  “শত ব্যস্ততার মাঝেও কুমিল্লা বারের বিজ্ঞ আইনজীবীদের দু’চোখ এখন প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি সুন্দরবনের দিকে” -এ শ্লোগানে আসছে ২৬ হতে ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লা বারের আইনজীবী বান্ধবনেতা সাবেক জেলা পিপি এডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান লিটন এর একক নেতৃত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে নদীপথে জলতরীতে আনন্দভ্রমণ।

জানা যায়- ওই ভ্রমণে অংশগ্রহণ করার জন্য ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন কুমিল্লা বারের বিজ্ঞ আইনজীবী ও তাদের স্পাউজ, পুত্র-কন্যাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিকর ভ্রমণ পিপাসী মানুষ। এ ছাড়াও জলতরীতে আনন্দ দিতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন দু’বাংলা (কুমিল্লা ও ত্রিপুরা) খ্যাতনামা শিল্পীরা। থাকছে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার ও টিকিট ক্রেতাদের মাঝে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র। মাত্র পঞ্চাশ টাকার কুপন কিনে প্রথম বিজয়ী পাবেন নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার।

সূত্রে জানাযায়- চারিদিকে গাড় সবুজ বন নস্তিব্দতা ভেঙ্গে পাখির কলতানে সে এক স্বপ্নের জগৎ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ভ্রমন চিরদিন আপনার স্বরণীয় হয়ে থাকবে। বর্ষা ও শরৎকালে সুন্দরবনের সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। ঝকঝকে আকাশ ও তীব্র রোদের মাঝে মুহুর্তেই চলে আসতে পারে বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার উধাও।

সুন্দরবনে রোদ বৃষ্টির খেলা দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই সৌন্দর্য বলে বোঝানো যায় না, শুধু উপভোগ করা যায়। প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় এই ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে সৌন্দর্য ধরা পড়ে বর্ষা ও শরৎ কালে। যারা রোমঞ্চপ্রিয় অজানাকে জানার আগ্রহ যাদের প্রবল, তাদের ডেস্টিনেশন হতে পারে সুন্দরবন। প্রতিটি মুহুর্তে যেন এই বন রং বদলায়।

বন বিভাগের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিরাপদে ভ্রমন করা যায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শরনখোলা রেঞ্জের কটকা। এটি বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে অবস্থিত। সহজেই হাটা যায় এমন কাঠের তৈরি একটি পথ আছে এখানে। সিডরের ধ্বংসলীলার চিহ্ন এখনো দেখা যায় এই পথের শেষ মাথায়, আছে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার যেখান থেকে পুরো বনটাই দেখা যায়। এখান থেকে জামতলা বিচে যাওয়া যায়। জঙ্গলের কাছেই সমুদ্র সৈকত তাই এখানে গেলে বিচটি উপভোগ করতে ভুলবেন না। তবে সাবধান এখানে জঙ্গলের মধ্যে বাঘ আছে।

তাই ট্যুর অপারেটর বা দক্ষ গাইড ছাড়া এখানে একা একা চলাফেরা করবেন না। কচিখালি আর একটি আকর্ষণীয় স্পট। এটিও বঙ্গেপসাগরের তীরে। বর্ষাকলে প্রবল ঢেউয়ের কারনে পর্যটকবাহী কোন জাহাজ কচিখালি যেতে চায় না। শরৎকালে অর্থ্যাৎ সেপ্টেম্বরের মাঝামঝি সময় থেকে আবার মুখর হয়ে উঠে পর্যটকদের পদচারনায়। জামতলা বিচের মতো কচিখালিও আকর্ষণীয়।

এখানে চিত্রা হরিন, বন্য শুকর, অজগর, লোনা পানির কুমির, বন মোরগ, বেঙ্গল কোবরাসহ অসংখ্য পাখির দেখা মিলবে। চিত্রা হরিন খুব কাছ থেকে দেখতে পাবেন। সুন্দরবনে ভ্রমণে কিছু জিনিসপত্র সঙ্গে নিলে ভ্রমণটি বেশি উপভোগ্য হবে। দুরবিন, ক্যামেরা, পর্যাপ্ত মেমোরি কার্ড,  জঙ্গলবুট, হাতমোজা, পা-মোজা, রোদটুপি বা হ্যাট, হেড-ল্যাম্প কিংবা টর্চ, পতঙ্গ নিরোধ ক্রিম, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, মানচিত্র ও জিপিএস ইত্যাদি।

ফম/এমএমএ/

তাপস চন্দ্র সরকার | ফোকাস মোহনা.কম