
চাঁদপুর : শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন-জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান।
তিনি বলেন, আমরা অনেক দিবস পালন করি। সবগুলো দিবসেরই গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব আমাদের নিকট অনেক বেশী। যে কারণে আজকের এই আলোচনায় নতুন প্রজন্মকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কারণ তাদেরকে বুদ্ধিজীবী কারা ছিলেন জানাতে হবে।
ডিসি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করে। তারা তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিন্তক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বহু মানুষকে হত্যা করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের সন্তানদের প্রতি জাতির তথা আমাদের কর্তব্য রয়েছে। তারা যাতে উপলব্ধি করতে পারেন যে, তাদের ত্যাগ বৃথা যায়নি। আজও বর্তমান প্রজন্ম তা মনে রেখেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন-পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এসপি বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে প্রগতিশীল লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী সহ বিভিন্ন পেশার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সেই সকল ঘাতকদের প্রেতাত্মা জঙ্গি গোষ্ঠী প্রগতিশীল লেখক-বুদ্ধিজীবীদের উপর হামলা করছে, তাঁদের হত্যা করছে। সুতরাং প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প থেকে জাতিকে মুক্ত করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন-পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী মাষ্টার ও প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ।
ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ছড়াকার ডা. পিযুষ কান্তি বড়ুয়া।
ফম/এমএমএ/



