সেলিম খানের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ফাইল ছবি।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম খানকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পন করতে বলা হয়েছে।

ছয়দিন আগে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের আগাম জামিন স্থগিত করে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান চেয়ারম্যান সেলিম খান।

জামিনের চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল।
কিন্তু তার আগেই আগাম জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। সেলিম খানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেলিম খানের আগাম জামিন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে। ‘

প্রথমে এ মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করলে হাইকোর্ট সেলিম খানকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন। ওই আদেশে মামলা নম্বর ভুল থাকায় আত্মসমর্পন না করে হাইকোর্টে নতুন করে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন সেলিম খান। সে আবেদনে শুনানির পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। দুদকের আবেদনে সে জামিনই স্থগিত করলেন চেম্বার আদালত।

৩৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সেলিম খানের মোট ৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের উল্লেখ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন।

মামলায় বলা হয়, সেলিম খান অবৈধ উপায়ে ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতি পূর্ণভাবে অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সেলিম খান যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন, তা যাচাই-বাছাই করে অসংগতি পাওয়া গেছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌজায় সেলিম খানের ১৯ দশমিক ৮৯ একর জমি, ঢাকার কাকরাইলে আজমিন নামে একটি পাঁচতলা ভবন, কাকরাইলে ৭১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় ১০ তলা বাড়িসহ মোট ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৩২ হাজার ২১ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ছয়টি ড্রেজার, তিনটি প্রাইভেট কার/জিপ, একটি পিস্তল, একটি শটগান, আসবাব, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি, নয়টি সিনেমা নির্মাণ ও আমদানিতে বিনিয়োগ, ৫৮টি সিনেমা নির্মাণে অনুমতির নিবন্ধন ফি জমা, ব্যাংক হিসাবে জমা ও হাতে নগদসহ আরও ১১ কোটি ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর মিলে সেলিম খানের ৩৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পারিবারিক ও অন্যান্য বাবদ এক কোটি ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৩১০ টাকা পাওয়া গেছে। এ সব সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য চার কোটি ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৬ টাকা আয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত।

তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফম/এমএমএ/

নিউজ ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম