মা ইলিশ শিকারে প্রস্তুতি নিচ্ছে অসাধু জেলেরা

ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর: জাতীয় সম্পদ ইলিশ প্রজনন রক্ষায় সরকার কঠোর প্রদক্ষেপ নিয়ে আসছে। কিন্তু থেমে নেই অসাধু জেলে চক্র। ইতোমধ্যে তারা অবৈধ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল প্রস্তুত শুরু করেছে। অনেকটা গোপনেই চলে তাদের কারেন্টজাল প্রস্তুতের কাজ। এসব বিষয়গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানলেও কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। অনেক স্থানে আবার জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের লোকজন জাটকা ও মা ইলিশ প্রজনন রক্ষার বিপরীতে কাজ করেন।

রবিবার (২ অক্টোবর) চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কের পাশে দেখাগেছে বাড়ীর আভ্যন্তরে নিষিদ্ধ ও অবৈধ কারেন্টজাল প্রস্তুত করা হচ্ছে মা ইলিশ ধরার জন্য। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে জেলেরা অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এদের মধ্যে জাটকা ও মা ইলিশ হত্যা যজ্ঞের অন্যতম নেছার আহম্মেদ সৈয়াল উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, আপনারা বাড়ীতে প্রবেশ করেছেন কেন।

সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০২১ সালে জাটকা ও মা ইলিশ নিধন করার জন্য সংঘবদ্ধ জেলেদের নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন নেছার আহম্মেদ সৈয়াল। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র ৪-৫শ’ গজ দক্ষিনে চলছে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, সুতা ও কাঁঠি গাথার প্রস্তুতি। প্রায় ৮ থেকে ১০জন জেলে নিয়োজিত আছেন এই কাজে।

এদের মধ্যে জেলে মনির হোসেন শেখ জানান, এসব জাল তাদের নিজেদের টাকা দিয়ে কিনেন না। দাদনদাররা এই কাজে অর্থ বিনিয়োগ করেন।

নেছার আহম্মেদ সৈয়ালই নয়, তিনি মাত্র উদহারণ। মেঘনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে জেলে পাড়াগুলোতে এমন প্রস্তুতি প্রত্যেক বছরই হয়। তাদের এই প্রস্তুতি বন্ধের জন্য পূর্ব থেকেই জেলে পাড়ায় অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করেন মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেরা।

উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় বরাবরের মতো এবছরই আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর ২২ দিন সারাদেশে এই মাছ শিকার বন্ধ থাকবে।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম